ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিঃসীমান্তে অনিয়মিত প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে। ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এক লাখ ৩২ হাজার ৬০০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা ইনফো মাইগ্রেন্টস এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে ৭.১ শতাংশ।
অন্যদিকে, ইইউভুক্ত দেশগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ১৮ হাজার ৫২৫ জন, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৫ জনে। অর্থাৎ এক বছরে অবৈধ অবস্থানকারীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ২১.৭ শতাংশ।
২০২৫ সালে চার লাখ ৯১ হাজার ৯৫০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল চার লাখ ৬৪ হাজার ৯৮৫ জন। ফলে এক বছরে নির্দেশ বেড়েছে ৫.৮ শতাংশ। একই সময়ে এক লাখ ৩৫ হাজার ৪৬০ জনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০.৯ শতাংশ বেশি।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি অভিবাসী ফেরত পাঠিয়েছে জার্মানি। দেশটি ২০২৫ সালে মোট ২৯ হাজার ২৯৫ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে। এরপর রয়েছে ফ্রান্স, যেখান থেকে ১৪ হাজার ৯৪০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সুইডেন থেকেও ১১ হাজার ২৫০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত পাঠানোদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন তুরস্কের নাগরিক, মোট ১৩ হাজার ৪০৫ জন। এছাড়া জর্জিয়ার ১০ হাজার ৪৭৫ জন, সিরিয়ার ৮ হাজার ৩৭০ জন এবং আলবেনিয়ার ৮ হাজার ২০ জন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউরোস্ট্যাটের এই তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইইউর অভিবাসন নীতি আরো কঠোর হচ্ছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, ফেরত পাঠানো এবং বহিঃসীমান্তে নজরদারি বাড়ানো এখন ইইউ নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সদস্য দেশগুলো অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং তৃতীয় দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউরোপে রাজনৈতিকভাবে কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতি সমর্থন বাড়ছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে এ ধরনের পদক্ষেপ আরো বাড়তে পারে। এতে অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য ইউরোপে প্রবেশ ও অবস্থান আরো কঠিন হয়ে উঠবে।
logo-1-1740906910.png)