ফ্রান্স ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের (নন-ইইউ) শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির সরকার বলছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার অর্থায়ন কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাবে এবং জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নন-ইইউ শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর প্রোগ্রামের জন্য বছরে ২ হাজার ৮৯৫ ইউরো এবং মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য ৩ হাজার ৯৪১ ইউরো ফি দিতে হবে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফি কমানো বা ছাড় দেওয়ার সুযোগ পেত, কিন্তু এখন থেকে ‘ডিফারেনশিয়েটেড ফি’ হবে মূল নিয়ম। ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী ফিলিপ ব্যাপটাইজ বলেছেন, “ডিফারেনশিয়েটেড ফি এখন নিয়ম, আর ছাড় দেওয়া হবে ব্যতিক্রম।”
নতুন নীতিতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ নন-ইইউ শিক্ষার্থী ফি ছাড়ের আওতায় আসতে পারবেন। একই সঙ্গে সরকার ঘোষণা দিয়েছে, মোট বৃত্তির প্রায় ৬০ শতাংশ দেওয়া হবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে; যেমন ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম বিজ্ঞান ও বায়োটেকনোলজি। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে।
তবে এই নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা জানিয়েছে ফ্রান্স ইউনিভার্সিটিস। সংগঠনটির মতে, নতুন ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করবে। উচ্চ ফি অনেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে এবং বৃত্তি ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আবেদনকারীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ইতোমধ্যে যারা আবেদনপ্রক্রিয়ায় আছেন, তাদের সিদ্ধান্তেও নতুন নীতি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা খরচ বিবেচনায় ইউরোপে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য ফি বৃদ্ধি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। সাশ্রয়ী শিক্ষার সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিকল্প গন্তব্যের দিকে ঝুঁকতে পারেন, তবে কৌশলগত বিষয়ে বৃত্তি বাড়ানো দেশটির উচ্চশিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে।
logo-1-1740906910.png)