বিশ্বজরিপে সবচেয়ে অপ্রিয় দেশ ইসরায়েল, তলানির দিকে যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ১৯:১৯
আন্তর্জাতিক ডেটা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিরা ডেটা প্রকাশিত ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে অপ্রিয় দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ইসরায়েল। নেতিবাচকভাবে দেখা দেশের তালিকায় ইসরায়েলের পরেই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান। আর পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে ইতিবাচক মনোভাব থাকা শীর্ষ পাঁচ দেশ হলো সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালি। জরিপে বিশ্বের ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর ৪৬ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের হামলা, ফিলিস্তিনিদের গণবাস্তুচ্যুতি, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটি দিন দিন একঘরে হয়ে পড়ছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক আদালতগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুরুতর আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করার পর থেকেই এর ভাবমূর্তি তলানিতে নেমে গেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং অধিকাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে অনেক গবেষক পরিকল্পিত জাতিগত হত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের নেট রেটিং ২০২৪ সালের প্লাস ২২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে মাইনাস ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ৩৮ পয়েন্টের বড় পতন ঘটেছে। জরিপে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও ইসরায়েলের পর যুক্তরাষ্ট্রকেও এখন বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির প্রতি বিশ্বজুড়ে ক্ষোভই এর মূল কারণ। ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, আগ্রাসী শুল্কনীতি, ইউক্রেনে সহায়তা হ্রাস এবং ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলকে সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক জনমতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একের পর এক যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও জাতিসংঘে ইসরায়েলকে জবাবদিহি থেকে রক্ষা করা এবং অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন অনেকেই বিচারহীনতা ও দ্বিমুখী নীতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
logo-1-1740906910.png)