হিমালয়-কন্যা নেপাল বছরের প্রতিটি ঋতুতেই ভ্রমণকারীদের জন্য অনন্য সৌন্দর্য উপহার দেয়। তবে যারা ট্রেকিংয়ের জন্য আদর্শ আবহাওয়া ও মনোমুগ্ধকর পাহাড়ি দৃশ্য খুঁজছেন, তাদের জন্য মে মাস হতে পারে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। বর্ষা শুরুর ঠিক আগের এই মাসে বিদায়ী বসন্ত প্রকৃতিকে সতেজ রাখে, আর আকাশ থাকে পরিষ্কার ও নীলাভ।
মে মাসে নেপালের আবহাওয়া সাধারণত স্থিতিশীল থাকে। দিনের বেলা আকাশ পরিষ্কার থাকায় এভারেস্ট, অন্নপূর্ণা কিংবা ধবলগিরির মতো শৃঙ্গগুলো স্পষ্ট দেখা যায়। ২ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায় দিনের তাপমাত্রা থাকে প্রায় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা হাইকিংয়ের জন্য আরামদায়ক। রাতের তাপমাত্রা উচ্চতাভেদে ৮ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত নামতে পারে। মাসের শেষ দিকে হালকা বজ্রবৃষ্টি বা ঝিরঝিরে বৃষ্টি পাহাড়ি পরিবেশকে আরো সতেজ করে তোলে।
এই সময় আকাশ মেঘমুক্ত থাকে, ফলে পাহাড়ের দৃশ্য নিখুঁতভাবে দেখা যায়। আলোকচিত্রীদের জন্য এটি ছবি তোলার দারুণ সুযোগ। পাহাড়ের ঢালগুলো লাল, গোলাপি ও সাদা রডোডেনড্রন ফুলে ছেয়ে থাকে, যা দীর্ঘ পথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। দিনের স্থায়িত্ব বেশি থাকায় পর্যটকরা ধীরে-সুস্থে প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন।
মে মাসে নেপালের প্রায় সব রুটই ট্রেকারদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তবে কিছু বিশেষ ট্রেইল এই সময়ে আরো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এভারেস্ট বেসক্যাম্পে যাত্রা বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। অন্নপূর্ণা সার্কিট ও বেসক্যাম্পে প্যানোরামিক ভিউ এবং থোরং লা পাস অতিক্রমের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। লাংতাং ভ্যালি তামাঙ্গ সংস্কৃতি ও হিমবাহের সান্নিধ্য এনে দেয়, আর মানাসলু সার্কিট নির্জন পাহাড়ি পরিবেশে আদিম রূপ দেখার সুযোগ করে দেয়।
পাহাড়ের আবহাওয়া যে কোনো সময় খারাপ হতে পারে। তাই কয়েক স্তরের পোশাক, রেইনকোট, প্রয়োজনীয় পারমিট ও ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স সঙ্গে রাখা জরুরি। নিবন্ধিত গাইড ও ট্রেকিং কোম্পানির মাধ্যমে যাত্রা করলে নিরাপত্তা ও থাকা-খাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।
logo-1-1740906910.png)