তুলনামূলক ছোট অর্থনীতির দেশ কম্বোডিয়ায় নিয়মিত কর্মী পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে দেশটিতে নেই বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস। ফলে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়ায় অনেকেই কাজের নিশ্চয়তা না পেয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন। এমনকি ক্যাসিনো-স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এখন টিভির প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী এক কর্মী জানান, শুরুতে তাকে ইলেকট্রিক্যাল কাজের কথা বলে নিয়েছিল এজেন্সি। পরে তাকে একটি ক্যাসিনোতে বিক্রি করে দেওয়া হয় মাত্র ১,৪০০ টাকায়। ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও কিছুই করা হয়নি।
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন নিয়ে কিছু নামসর্বস্ব রিক্রুটিং এজেন্সি কম্বোডিয়ায় কর্মী পাঠাচ্ছে। অভিবাসন ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা, কিন্তু বাস্তবে কর্মীদের খরচ হচ্ছে ছয় লাখ টাকারও বেশি। গেল দুই বছরে বিএমইটির অনুমোদন নিয়ে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী কম্বোডিয়া গেছেন। কিন্তু তাদের খোঁজখবর রাখছে না কোনো সংস্থা।
রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি ভবনের ঠিকানা ব্যবহার করে ১৪৪ জন কর্মীর অনুমোদন নেয় মঙ্গল গ্লোবাল সার্ভিসেস। কিন্তু সেখানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফোন নম্বরও বন্ধ। একইভাবে কাকরাইলের মন্ডল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের অনুমোদন পাওয়া গেলেও তাদের কাছে কর্মীদের কোনো তথ্য নেই।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক স্বীকার করেছেন, কম্বোডিয়ার ফাইল নিয়ে ব্যাপক তদবির হয়েছে। তিনি বলেন, “কিছু ছাড়পত্র প্রপার চেকিং ছাড়াই দেওয়া হয়েছে। আমরা এটা বন্ধ করতে চাই।” অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সংখ্যার হিসেবে কর্মী পাঠানোর কারণে ভুক্তভোগী হচ্ছেন অনেকে। অনিরাপদ গন্তব্যে কর্মী পাঠানোর দায় সরকারকেই নিতে হবে।
ফিল্মস ফর পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, “কম্বোডিয়াতে আমাদের মাইগ্রেন্টদের দিয়ে স্ক্যামিং করানো হচ্ছে। সরকার কোথায় কর্মী পাঠাবে, কোথায় পাঠাবে না- এ বিষয়ে নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে।”
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, “সরকার এবং বিশেষ করে বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দায় নিতে হবে। অনুমোদন দেওয়া হয়েছে পুরোপুরি না জেনে। সেখানে কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।”
গত এপ্রিল মাসে ব্যাংকক বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি দেখে দেশে ফেরার আবেদন করেছেন প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশি। কিন্তু বাকি হাজারো কর্মী এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)