Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ: আইওএমের প্রতিবেদন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৯:২৬

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ: আইওএমের প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) তাদের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড মাইগ্রেশন রিপোর্ট ২০২৬-এ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩০ লাখের বেশি। এটি আধুনিক ইতিহাসে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ সংখ্যা। সংঘাত, সহিংসতা, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত অবক্ষয় এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে এই অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, যা অভিবাসনের ধারা ও মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

আইওএম মহাপরিচালক এমি পোপ বলেছেন, ‘‘অভিবাসনের বর্তমান গতিশীলতা অর্থনৈতিক চাপ, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং দুর্বল শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে মিলিত হয়ে এক জটিল ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি করছে”। তিনি আরো বলেন, অনেক মানুষ নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশগত ব্যাঘাত এখন আর ভবিষ্যতের ঝুঁকি নয়, বরং মানুষের স্থানান্তরের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেকর্ড তাপমাত্রা, খরা, দাবানল ও ঝড়ের মতো জলবায়ু দুর্যোগে কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। ২০২৪ সালে প্রায় ৬ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে উচ্ছেদ হয়েছেন, যার মধ্যে ৪ কোটি ৫৮ লাখ জলবায়ু দুর্যোগের কারণে এবং ২ কোটি ১ লাখ সংঘাত ও সহিংসতার কারণে।

২০২৪ সালে ইউরোপে প্রায় ৯ কোটি ৪০ লাখ এবং এশিয়ায় প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ আন্তর্জাতিক অভিবাসী আশ্রয় পেয়েছেন। এই দুই অঞ্চল মিলে বিশ্বের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ৬১ শতাংশ ধারণ করছে। উত্তর আমেরিকায় আশ্রয় পেয়েছেন প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী, আফ্রিকায় ১০ শতাংশ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ৬ শতাংশ এবং ওশেনিয়ায় ৩ শতাংশ।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স অনেক দেশের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে ভারত, মেক্সিকো ও ফিলিপাইন বিশ্বের শীর্ষ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশ ছিল। এই তিন দেশ মিলে ২৪৫০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিসর, গুয়েতেমালা ও নাইজেরিয়াও এখন শীর্ষ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানি রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

২০০৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এশিয়ায় অভিবাসীর সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে, ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি। ইউরোপে বেড়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ, উত্তর আমেরিকায় ১ কোটি ৬০ লাখ এবং আফ্রিকায় ১ কোটি ৪০ লাখ। এসব পরিবর্তন শ্রমবাজারের চাহিদা, ধনী দেশগুলোর বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা এবং ঐতিহাসিক অভিবাসন করিডোরকে প্রতিফলিত করছে।

আইওএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন কোনো এলোমেলো প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত নিদর্শন অনুসরণ করে। সীমান্ত কঠোর হওয়া, সংঘাত বৃদ্ধি এবং শ্রম ঘাটতি অভিবাসনের ধারা পুনর্গঠন করছে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স কোটি কোটি পরিবারের জীবনরেখায় পরিণত হয়েছে। তবে অভিবাসন-নির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে বৈশ্বিক অস্থিরতা।

Logo