যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই ডিটেনশন সেন্টারের অমানবিক বাস্তবতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১০:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আইসিই (Immigration and Customs Enforcement) ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অমানবিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এসব সেন্টারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গেছে এবং বন্দিদের জীবনযাপন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
বন্দিদের অনেক সময় ছোট কংক্রিট কক্ষে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়, যেখানে পর্যাপ্ত বিছানা বা বিশ্রামের ব্যবস্থা নেই। বাইরের পরিবেশে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
চিকিৎসা সেবার অভাব সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। দাঁতের সংক্রমণ থেকে সেপসিস, দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা না হওয়া এবং জরুরি চিকিৎসায় বিলম্বের কারণে বহু মৃত্যু ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অধিকাংশ মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল।
বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের একাকী কারাবাসে রাখা হচ্ছে। ২০২৩ সালের পর থেকে এর ব্যবহার প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। দীর্ঘ সময় একাকী কারাবাস মানসিক ও শারীরিকভাবে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।
২০২৫ সালে ৩০ জনের বেশি অভিবাসী মারা গেছেন, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গড়ে প্রতি ছয় দিনে একজন অভিবাসী মারা যাচ্ছেন।
অভিবাসন ডিটেনশন ওম্বাডসম্যান অফিস, যা নির্যাতন ও দুর্নীতি তদন্ত করত, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে অভিযোগের তদন্ত ও জবাবদিহিতা আরো দুর্বল হয়েছে। বন্দিদের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগও কঠিন হয়ে পড়ছে।
আইসিই নতুন করে গুদাম কিনে বিশাল ডিটেনশন সেন্টারে রূপান্তর করছে। এতে একসঙ্গে প্রায় ৯৬ হাজার মানুষ আটক রাখার ক্ষমতা তৈরি হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই সম্প্রসারণ আরও অমানবিক পরিবেশ তৈরি করবে এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে অমানবিক পরিবেশ, চিকিৎসা অবহেলা, একাকী কারাবাস এবং নজরদারির অভাব অভিবাসীদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এগুলো প্রতিরোধযোগ্য ছিল। একই সময়ে আইসিই ডিটেনশন ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরো সংকট তৈরি করতে পারে।
logo-1-1740906910.png)