ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব নিয়ে আগামী ১৪ জুন গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। “১০ মিলিয়নের সুইজারল্যান্ড নয়” শীর্ষক এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৫০ সালের আগে দেশটির স্থায়ী জনসংখ্যা যেন এক কোটির বেশি না হয়, তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ডানপন্থি রাজনৈতিক দল সুইস পিপলস পার্টি (ইউডিসি)।
সুইজারল্যান্ডের পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় দল ইউডিসি দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তাদের দাবি, নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন দেশটির অবকাঠামো, পরিবেশ ও আবাসন খাতের ওপর চাপ তৈরি করছে। দলটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এক বছরে নিট এক লাখ ৮০ হাজার মানুষের আগমনের পর এখন ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, জনসংখ্যা যদি ৯৫ লাখে পৌঁছে যায়, সরকারকে কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মধ্যে আশ্রয়নীতি কঠোর করা, পরিবার পুনর্মিলনের সুযোগ সীমিত করা এবং রেসিডেন্স পারমিট কমিয়ে আনার বিষয় রয়েছে। এরপরও জনসংখ্যা এক কোটির বেশি হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাতিল করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মানুষের অবাধ চলাচল সংক্রান্ত চুক্তি, যা ১৯৯৯ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
ইউডিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিন আমোদরুজ বলেছেন, ৯৫ লাখ জনসংখ্যায় পৌঁছানোকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হবে। তখন সরকারকে ইইউর সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করতে হবে। তবে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল কাউন্সিল, পার্লামেন্টের অধিকাংশ দল এবং বিরোধীরা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এতে দেশটির অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রস্তাবটি পুরোপুরি অজনপ্রিয় নয়। লিওয়াস ইনস্টিটিউটের জরিপ অনুযায়ী, ৫২ শতাংশ ভোটার উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। বিশেষ করে ৩৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সিদের মধ্যে সমর্থন বেশি।
সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অফিস জানিয়েছে, ২০২৪ সালের শেষে দেশটির জনসংখ্যা ছিল ৯০ লাখ, যার মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫৫ সালের মধ্যে জনসংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছাতে পারে। সমর্থকেরা বলছেন, অতিরিক্ত অভিবাসনের কারণে ট্রেন ও সড়কে ভিড় বাড়ছে, বাসস্থানের সংকট তৈরি হচ্ছে, সামাজিক ব্যয় বাড়ছে এবং অপরাধও বাড়ছে।
অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, অভিবাসন সীমিত করলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিবাসী শ্রমিকরা সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। ইইউ থেকে আসা প্রায় ৭৫ শতাংশ অভিবাসী সরাসরি কাজ করেন। বিরোধীদের মতে, প্রস্তাবটি বিদেশিবিরোধী ও অমানবিক। আশ্রয়প্রার্থীরা মোট অভিবাসনের খুবই ছোট অংশ, তাই জনসংখ্যা সীমিত করলেই পরিবেশগত সমস্যার সমাধান হবে না।
প্রতিবেশী ফ্রান্সেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডে অভিবাসন সীমিত হলে দেশটি সীমান্তবর্তী শ্রমিকদের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এতে ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে জনসংখ্যার চাপ আরও বাড়তে পারে।
logo-1-1740906910.png)