ভারতের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে অন্তত একটি রাজ্যে বামপন্থীরা ক্ষমতায় থাকলেও এবার সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। কেরালা রাজ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বামপন্থী জোট লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) পরাজিত হয়েছে। ফলে এখন আর কোনো রাজ্যে বামপন্থীরা ক্ষমতায় নেই।
কেরালা বিশ্বের প্রথম রাজ্য যেখানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার গঠিত হয়েছিল। ১৯৫৭ সালে সিপিআই নেতা ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ভূমি সংস্কার ও শিক্ষা সংস্কার চালু করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক রাজ্যেই এবার বামপন্থীদের পতন ঘটল। নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) বিপুল জয় পেয়েছে। ১৪০ আসনের মধ্যে তারা ৯৮টিতে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে, আর এলডিএফ পেয়েছে মাত্র ৩৫টি আসন।
ভারতে বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল মূলত তিন রাজ্যে—পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও কেরালা। পশ্চিমবঙ্গে ১৯৭৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত বামফ্রন্ট ক্ষমতায় ছিল। ত্রিপুরায় ১৯৯৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তারা শাসন করেছে। কেরালায় এলডিএফ ও ইউডিএফ পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু এবার বামপন্থীরা পুরোপুরি ক্ষমতাচ্যুত হলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বামপন্থীদের পতনের পেছনে রয়েছে নানা কারণ। উত্তর ভারতের হিন্দি ভাষাভাষী অঞ্চলে তাদের প্রভাব কখনোই তেমন ছিল না। শিল্পাঞ্চল ও ট্রেড ইউনিয়ন দুর্বল হয়ে পড়ায় তাদের ভিত্তি ক্ষয় হয়েছে। এছাড়া জাতপাত ও লিঙ্গভিত্তিক প্রশ্নে তারা কার্যকর কোনো অবস্থান নিতে পারেনি।
কেরালার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করেছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাঁর সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছিল। এমনকি চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে কেরালাকে ‘চরম দারিদ্র্যমুক্ত’ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলডিএফের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অনেক ভোটার মনে করেছেন, তারা আর আগের মতো প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বামপন্থীরা ক্ষমতায় না থাকলেও বিরোধী শক্তি হিসেবে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দেশে ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়ছে, করপোরেটমুখী নীতি জোরদার হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বামপন্থীদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)