Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

পর্তুগালে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ বাড়ছে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ২৩:৪৩

পর্তুগালে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ বাড়ছে

ইউরোপের দেশ পর্তুগাল এখন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। দেশটিতে শ্রমিক সংকট বাড়তে থাকায় বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণশিল্প, কৃষি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও কারখানা খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মীর চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাতেও বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মী সংকট এবং সরকারের সহায়ক নীতির কারণে পর্তুগাল এখন বিদেশি কর্মীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় বাজার। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন সঠিক দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় অভিবাসনের প্রস্তুতি।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দুটি পদ্ধতিতে পর্তুগালে কাজের আবেদন করতে পারেন। প্রথমত, বাংলাদেশের সনদকে ইকুইভ্যালেন্স প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্তুগিজ সমমান সনদে রূপান্তর করে অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদনকারীর অবশ্যই রেসিডেন্স পারমিট থাকতে হবে। কারণ ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো চাকরির সাক্ষাৎকারে কাজের অনুমতি আছে কিনা তা যাচাই করে।

ইকুইভ্যালেন্স প্রক্রিয়ায় বিদেশি নাগরিকরা তাদের ডক্টরেট, মাস্টার্স বা ব্যাচেলর ডিগ্রিকে পর্তুগিজ সমমান হিসেবে স্বীকৃতি নিতে পারেন। এজন্য সনদকে পর্তুগিজ ভাষায় অনুবাদ ও নোটারি করতে হয়, দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করতে হয় এবং নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হয়।

চাকরির অফার লেটার পাওয়ার পরই কাজের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভিসার জন্য প্রয়োজন বৈধ পাসপোর্ট, চাকরির চুক্তিপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার প্রমাণ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও জীবনবৃত্তান্ত। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও থাকার প্রমাণও দিতে হয়। ভাষাজ্ঞানও গুরুত্বপূর্ণ; ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা থাকলেই প্রাথমিকভাবে চললেও পর্তুগিজ ভাষা জানলে চাকরি পাওয়া ও কাজের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।

বেতন কাঠামোতে দেখা যায়, সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে মাসিক আয় ৯২০ থেকে ১ হাজার ইউরো। দক্ষ কর্মীদের আয় ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ইউরো বা তারও বেশি হতে পারে। তবে ভুয়া দালাল বা অবৈধ এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি রয়েছে। তাই চাকরিপ্রত্যাশীদের সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য জব পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগালের ভিসা নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। ‘জব সিকার’ ভিসা সীমিত করা হয়েছে এবং আগে থেকেই চাকরি নিশ্চিত করে আবেদন করার প্রবণতা বাড়ছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আফজাল উদ্দিনের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি মাস্টার্স পড়তে পর্তুগালে আসেন। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সহায়তায় চাকরি খুঁজতে শুরু করেন। লিংকডইন প্রোফাইল গুছিয়ে বহু সাক্ষাৎকার দেন, প্রত্যাখ্যাতও হন, কিন্তু হাল ছাড়েননি। বর্তমানে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করছেন।

Logo