Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের মিথ্যা অভিযোগ বাড়ছে: হোম অফিস মন্ত্রী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১১:৪৬

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের মিথ্যা অভিযোগ বাড়ছে: হোম অফিস মন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস মন্ত্রী জেস ফিলিপস এমপিদের জানিয়েছেন, অভিবাসীদের মধ্যে ভুয়া গৃহ নির্যাতনের অভিযোগের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে এ ধরনের অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ফিলিপস জানান, তিনি ২০২৪ সালে মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের তদন্ত করতে বলেছেন। তার মতে, প্রমাণের মানদণ্ড আরো কঠোর করা প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে সহায়তা সংস্থার সনদই যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়, কিন্তু এসব সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা আরো কঠোরভাবে যাচাই করা দরকার।

তিনি বলেন, পুলিশের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণ জরুরি। কারণ ভুয়া অভিযোগ এখন এক ধরনের কৌশল হয়ে উঠেছে। সংসদীয় কমিটিতে তিনি ব্যাখ্যা করেন, অনেক ক্ষেত্রে নারী অভিযোগ করেন তিনি নির্যাতনের শিকার, আবার পুরুষও পাল্টা দাবি করেন তিনিই নির্যাতিত। ফলে “ক্লেইম ও কাউন্টার ক্লেইম” বেড়ে যাচ্ছে।

ফিলিপস রসিকতার ছলে বলেন, মনে হয় যেন সব নির্যাতনকারী একটি বড় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আছে, যেখানে তারা শিখছে কীভাবে সিস্টেমকে ফাঁকি দেওয়া যায়।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, অভিবাসীরা যদি গৃহ নির্যাতনের শিকার হন এবং তাদের ভিসা সঙ্গীর ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে তারা দ্রুত স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল প্রকৃত ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য, যাতে তারা নির্যাতনকারী সঙ্গীর সঙ্গে থাকতে বাধ্য না হন বা দেশ ছাড়তে না হয়।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এই রুট ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত দুই বছরে ৫০ শতাংশ বেড়ে বছরে ৫ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে। ফিলিপস বলেন, তিনি ভুয়া অভিযোগের সংখ্যা বাড়তে দেখেছেন, তবে হাজার হাজার অভিযোগই সম্পূর্ণ বৈধ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ভুয়া অভিযোগ ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে হবে, তবে যেন প্রকৃত ভুক্তভোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। “কেউ চাইবে না যে একজন নারীকে নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে অসংখ্য জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হোক,” তিনি বলেন।

ফিলিপস আরো বলেন, প্রমাণের মানদণ্ড এমন হতে হবে, যা ভুয়া অভিযোগ ঠেকাবে, আবার একই সঙ্গে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

কনজারভেটিভ এমপি রব্বি মুর জানান, তার নির্বাচনী এলাকার এক নারী শিক্ষক ভুয়া অভিযোগের কারণে চাকরি হারিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ফিলিপস বলেন, যারা ভুয়া অভিযোগ করে তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

Logo