অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যায় বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ছুঁইছুঁই। নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ এখন বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। এর মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশটির আনুমানিক জনসংখ্যা ছিল ২৭.৬ মিলিয়ন। এর মধ্যে ৮.৮৩ মিলিয়ন মানুষ বিদেশে জন্মেছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৭১ হাজার ২০, আর ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৫০। এভাবে দীর্ঘদিনের শীর্ষ অবস্থান হারিয়েছে ইংল্যান্ড।
চীনে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৭ লাখ ৩২ হাজার, যা আগের বছরের তুলনায় আরো বেড়েছে। নিউজিল্যান্ড থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৮ হাজার এবং ফিলিপাইন থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩০, যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। শীর্ষ পাঁচ দেশের বাইরে ভিয়েতনাম, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়া থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন।
ইতালি ও ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা গত এক দশকে সবচেয়ে বেশি কমেছে। এদের গড় বয়স ৬০ বছরের বেশি, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক অভিবাসনের প্রতিফলন। বর্তমানে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের গড় বয়স ৪৩, আর অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া মানুষের গড় বয়স ৩৫।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হচ্ছে। দেশটির স্থায়ী অভিবাসন কর্মসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ সালে ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষকে অভিবাসনের সুযোগ দেওয়া হবে, যার বেশির ভাগই দক্ষ কর্মী হিসেবে আসবেন। একই সময়ে নেট অভিবাসনের সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা কোভিড-পরবর্তী সময়ের তুলনায় কম।
অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, আধুনিক অস্ট্রেলিয়া মানেই বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়া। তিনি অভিবাসনকে দেশের উন্নয়ন ও বৈচিত্র্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর অভিবাসন মানদণ্ডকে কঠোর করার দাবি তুলেছেন এবং বলেছেন, অভিবাসন নীতির কেন্দ্রে ‘অস্ট্রেলিয়ান মূল্যবোধ’ থাকতে হবে।
logo-1-1740906910.png)