যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ ঝুলে আছে আদালতের রায়ে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২২
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ২৯ এপ্রিল হাইতি ও সিরিয়ার অভিবাসীদের অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচি (TPS) বাতিলের বিষয়ে শুনানি শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৩ লাখ মানুষকে বহিষ্কার থেকে রক্ষা করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অধিকাংশ টিপিএস বাতিল করেছে। এখন আদালতের রায় নির্ধারণ করবে, এসব মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন কিনা।
শুনানির আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে সুপ্রিম কোর্ট ভবনের সামনে হাইতি ও সিরিয়ার অভিবাসীদের সমর্থনে প্রার্থনা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই মানুষগুলোকে ফেরত পাঠানো হলে তারা আবারো সহিংসতা ও বিপদের মুখে পড়বেন।
টিপিএস মূলত এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য দেওয়া হয়, যেখানে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিরাপদে বসবাস করা সম্ভব নয়। হাইতি ও সিরিয়ার অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে এই সুরক্ষার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। কিন্তু প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাদের অবস্থান এখন অনিশ্চিত।
আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, টিপিএস বাতিল করা হলে হাজার হাজার পরিবার ভেঙে পড়বে। অনেক অভিবাসীর সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছে, যারা মার্কিন নাগরিক। তাদের বাবা-মাকে বহিষ্কার করা হলে পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, টিপিএস কখনো স্থায়ী সমাধান নয়। এটি সাময়িক সুরক্ষা মাত্র। তাই পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, হাইতি ও সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এখনো বিপজ্জনক। সেখানে ফেরত পাঠানো হলে অভিবাসীরা জীবন ঝুঁকিতে পড়বেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই শুনানি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের রায় অনুযায়ী টিপিএস বাতিল হলে বিপুল সংখ্যক মানুষকে বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে হবে। আবার রায় অভিবাসীদের পক্ষে গেলে তাদের অবস্থান আরো কিছুদিন নিরাপদ থাকবে।
logo-1-1740906910.png)