যুক্তরাজ্যের চেশায়ার পুলিশ আধুনিক দাসত্ব, যৌন নিপীড়ন ও জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগে এক ধর্মীয় সংগঠনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে। ২৮ এপ্রিল ক্রু শহরে তিনটি ঠিকানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, অভিযানে অংশ নেয় প্রায় ৫০০ পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ‘আহমাদি রিলিজন অব পিস অ্যান্ড লাইট’ (আরপল) নামের একটি ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য। সংগঠনটি ২০০০ সালের শুরুতে শিয়া ইসলামের অনুসারীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হলেও মূলধারার শিয়া সম্প্রদায় তাদের বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমানে সংগঠনটির প্রায় ১৫০ সদস্য রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও তিনজন নারী। তাদের জাতীয়তা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, ইতালি, স্পেন, সুইডেন, মিসর ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো মূলত ২০২৩ সালে ঘটে যাওয়া এক নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধকে কেন্দ্র করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন একজন ৩০ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক মানব পাচার, যৌন নিপীড়ন ও জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগে; একজন ৪৪ বছর বয়সী ইতালীয় নারী আধুনিক দাসত্ব ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে; দুইজন আমেরিকান নাগরিক যৌন নিপীড়ন ও আধুনিক দাসত্বের অভিযোগে; একজন ৩৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ নাগরিক ধর্ষণ ও জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগে; একজন সুইডিশ নারী ও একজন মিসরীয় পুরুষ আধুনিক দাসত্ব ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এবং একজন আমেরিকান নারী একই অভিযোগে।
অভিযানে ইউরোপোলও অংশ নেয়। আয়ারল্যান্ড ও সুইডেনের কর্মকর্তারা ব্রিটিশ পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেন। পুলিশ ওয়েব হাউসসহ তিনটি ভবন তল্লাশি করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে যেসব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তাদের নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
চেশায়ার পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট গ্যারেথ রিগলি বলেন, “আজকের অভিযান একটি দীর্ঘ ও শক্তিশালী তদন্তের ফল। আমরা স্পষ্ট করতে চাই, এটি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে তদন্ত নয়, বরং গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি অপরাধ তদন্ত।”
আরপল সংগঠনকে মূলধারার মুসলিম সম্প্রদায় অনেক আগেই নিজেদের থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। পুলিশও জানিয়েছে, তারা ধর্ম নয়, বরং সংগঠনের সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত করছে।
logo-1-1740906910.png)