Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

আমিরাতকে "আয়রন ডোম” দিচ্ছে ইসরায়েল

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৭

আমিরাতকে

মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত বড় ধরনের যুদ্ধের ঝনঝনানি নেই, কিন্তু উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিতও হয়নি। পরিস্থিতি যেন ঠিক ছাইচাপা আগুন! আর যে কোনো সময় দাউ দাউ করে জ্বলে উঠতে পারে সংঘাতের শিখা। এই বাস্তবতায় যখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন গণমাধ্যম Axios-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা চরমে ওঠার আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা জোরদারে সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল। বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে না এলেও এখন তা সামনে আসায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক, গোয়েন্দা ও কৌশলগত সহযোগিতা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় গভীর হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় এই সহযোগিতা আরো দৃশ্যমান রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর শুরু হওয়া সংঘাত পর্বে ইরান সবচেয়ে বেশি হামলার চেষ্টা চালায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে। প্রায় ৫৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজারের বেশি ড্রোন নিক্ষেপের তথ্য বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। সংখ্যার দিক থেকে এই আক্রমণ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালানো হামলার তুলনায়ও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও আমিরাতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হামলার বড় অংশই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে, ইরানের ক্ষোভ কেন এতটা আমিরাতমুখী? বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সমন্বয় এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা; এই তিনটি কারণ আমিরাতকে ইরানের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন তথ্যও এসেছে, আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে আরো সামরিক সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এমনকি ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ, আরব বিশ্বের ভেতরে ইসরায়েলি সেনার উপস্থিতি এখনো জনমত ও কূটনীতিতে একটি বড় ইস্যু। যদিও আমিরাত মনে করে, যুদ্ধে ইরানের হামলা দেশটির মানুষের সব সমীকরণ বদলে দিয়েছে।   

আর এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যখন একদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথ খুঁজছে, তখন অন্যদিকে কেন এই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে? এটি কি সম্ভাব্য সংঘাতের আগাম প্রস্তুতি, নাকি কেবল প্রতিরোধমূলক কৌশল?

বাস্তবতা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ‘শান্তি’ ও ‘প্রস্তুতি’- এই দুই বিপরীত ধারায় একসঙ্গে এগোচ্ছে। একদিকে কূটনীতি, অন্যদিকে সামরিক জোট- দুটিই সমান্তরালভাবে সক্রিয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে এখনো শান্তি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং এটি এক ধরনের কনট্রোল টেনশন, যেখানে সামান্য উসকানিই বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখনো কালো মেঘ জমে আছে। তাই এখন প্রশ্ন শুধু, সেটি কবে এবং কোথায় বৃষ্টি হয়ে নামবে।

Logo