থাইল্যান্ড সরকার বর্তমানে পর্যটন খাতে ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার বিষয়ে ভাবছে। বর্তমানে ৯৩ দেশের নাগরিকরা ৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন। তবে সরকার পুরনো নীতিতে ফিরে গিয়ে কেবল ৫৭ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার রাখার পরিকল্পনা করছে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে থাইল্যান্ডে পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ গত কয়েক বছরে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার বাড়ানোর ফলে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক থাইল্যান্ডে ভ্রমণ করেছেন।
পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার কমানো হলে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাবে। এতে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং বিনোদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে পর্যটন একটি বড় চালিকাশক্তি হওয়ায় এ সিদ্ধান্তের প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার সীমিত করার মূল উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদার করা। অনেক পর্যটক দীর্ঘ সময় অবস্থান করে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এ কারণে ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনার চিন্তা করা হচ্ছে।
তবে পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিকও বিবেচনায় রাখা জরুরি। থাইল্যান্ডে প্রতিবছর কোটি কোটি পর্যটক আসেন, যা দেশের জিডিপিতে বড় অবদান রাখে। ভিসা নীতি কঠোর হলে এ প্রবাহ কমে যেতে পারে।
পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার কমানোর আগে পর্যটন খাতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করতে। তারা বলছেন, পর্যটন খাতের ক্ষতি হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হবে।
এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে থাইল্যান্ড সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
logo-1-1740906910.png)