স্কটল্যান্ডে আসন্ন মে মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) সতর্ক করেছে, দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত অভিবাসী আসছে না। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো বলছে, অভিবাসন ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই চাপের মুখে রয়েছে।
এসএনপির হাউজিং সেক্রেটারি মেরি ম্যাকঅ্যালান বিবিসি স্কটল্যান্ডের দ্য সানডে শো অনুষ্ঠানে বলেন, “আমরা একটি স্বাগত জানানো জাতি। অভিবাসন আমাদের অর্থনীতির জন্য ভালো, বিশেষ করে হসপিটালিটি, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক যত্ন এবং ব্যবসায়িক খাতে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসন স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
তবে এই মন্তব্য নির্বাচনী বিতর্কে অন্য দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়ে। রিফর্ম ইউকে দলের নেতা থমাস কের দাবি করেন, অভিবাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পথে। কনজারভেটিভরা বলেন, জনসাধারণের আস্থা হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসনকে অর্থনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় বলে সমর্থন জানায়। স্কটিশ গ্রিন পার্টি অভিবাসনকে “মূল্যবান” হিসেবে বর্ণনা করে।
বিবিসি স্কটল্যান্ডের এক জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের কাছে অভিবাসন চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির পরেই।
ম্যাকঅ্যালান স্বীকার করেন, আবাসন সংকট রয়েছে, তবে এর জন্য অভিবাসনকে দায়ী করা উচিত নয়। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে নির্মাণ খাত স্থবির হয়ে পড়েছে, যা আবাসন ঘাটতির মূল কারণ। সরকার সাশ্রয়ী আবাসন বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।
রিফর্ম ইউকে অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন সংকটের সঙ্গে যুক্ত করেছে। কের দাবি করেন, গ্লাসগোতে স্থানীয় বাসিন্দাদের তুলনায় আশ্রয়প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে মন্ত্রীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। লেবার নেতা মাইকেল মারা বলেন, সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের কোথাও না কোথাও আশ্রয় দিতে হবে। তিনি দ্রুত বাড়ি নির্মাণের ওপর জোর দেন।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের ক্রিস্টিন জার্ডিন বলেন, স্কটল্যান্ডে বিশাল দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যত্ন খাত অভিবাসী কর্মী ছাড়া টিকে থাকতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের দাবি নিষ্পত্তির সময় কাজ করার অনুমতি দেওয়া উচিত, যাতে তারা শ্রমবাজারে অবদান রাখতে পারে এবং সমাজে একীভূত হতে পারে।
এদিকে রিফর্ম ইউকে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে কিছু এলাকায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আবেরডিন ও মধ্য স্কটল্যান্ডে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, স্কটল্যান্ড সাধারণভাবে অভিবাসীদের স্বাগত জানালেও বৈষম্যমূলক বক্তব্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্কটল্যান্ডের অভিবাসন বিতর্ক মূলত দ্বন্দ্বপূর্ণ চাপের প্রতিফলন। একদিকে বয়স্ক জনসংখ্যা ও শ্রমঘাটতি, অন্যদিকে আবাসন ও জনসেবার ওপর চাপ। নির্বাচনের আগে এই ইস্যু আরো তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)