বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে পোল্যান্ড
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮
পোল্যান্ড সরকার জনসংখ্যা হ্রাসজনিত সংকট মোকাবিলায় বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের উদ্যোগ জোরদার করেছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী মার্সিন কুলাসেক জানিয়েছেন, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে একাডেমিক সম্পর্ক বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।
গত দুই দশকে পোল্যান্ডে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার সময় যেখানে মাত্র ৮ হাজার ৮০০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল, ২০২২ সালে তা এক লাখের বেশি হয়। বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীরা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৯ শতাংশ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিদেশি শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন জ্লোটি অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে ক্ষমতায় আসা সরকার শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে কঠোরতা আরোপ করে। অভিযোগ ছিল, অনেক অভিবাসী শিক্ষার্থী ভিসাকে কাজে লাগিয়ে পোল্যান্ডে কাজ করছে বা অন্য ইইউ দেশে চলে যাচ্ছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার জনে। এর মধ্যে ইউক্রেন থেকে ৪৭ হাজার বেলারুশ থেকে ১২ হাজার এবং তুরস্ক থেকে ৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও ন্যাশনাল এজেন্সি ফর একাডেমিক এক্সচেঞ্জ (NAWA) নতুন করে কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি উজবেকিস্তানের সঙ্গে শিক্ষার্থী বিনিময় ও গবেষণা প্রকল্পে সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগামী মাসে তুরস্কের সঙ্গে একই ধরনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। এছাড়া ভিয়েতনামের সঙ্গে পুরনো চুক্তি নবায়ন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন সহযোগিতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী কুলাসেক বলেন, জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে তরুণদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সচল রাখতে এবং আর্থিকভাবে টিকে থাকতে বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণ অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, পোল্যান্ডে পড়াশোনার খরচ যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের তুলনায় অনেক কম, অথচ শিক্ষার মান আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পোল্যান্ডে জন্মহার বিশ্বের অন্যতম নিম্নস্তরে রয়েছে। গত ১৩ বছর ধরে মৃত্যুর সংখ্যা জন্মের চেয়ে বেশি। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৬০ সালের মধ্যে কর্মজীবনের পূর্ববর্তী বয়সের জনসংখ্যা ১৮.২ শতাংশ থেকে কমে ১১.৯ শতাংশে নেমে আসবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যেই সংকটে পড়েছে। ক্রাকোভ শহর জানিয়েছে, গত এক দশকে তাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। এ অবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীই হতে পারে টেকসই সমাধান। তবে সরকার নতুন নিয়ম চালু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে পোলিশ ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ, শিক্ষার্থীর যোগ্যতার কঠোর যাচাই এবং কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা।
প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জোর দিয়ে বলেছেন, পোল্যান্ড বিশ্বের সব দেশের শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত, তবে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠোরতা প্রয়োজন। মন্ত্রী কুলাসেক আশা প্রকাশ করেছেন, অনিয়ম দূর হওয়ার পর আগামী ভর্তি মৌসুমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সন্তোষজনক সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী পাবে।
logo-1-1740906910.png)