Logo
×

Follow Us

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ অভিবাসীদের যথাযথ কাজে লাগানো যাচ্ছে না

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৪

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ অভিবাসীদের যথাযথ কাজে লাগানো যাচ্ছে না

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ অভিবাসন কর্মসূচি সামাজিক কাজের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, সামাজিক কাজকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হলেও মানবসেবায় দক্ষতার ঘাটতি পূরণে এ কর্মসূচি কার্যকর হচ্ছে না।

ফেডারেল সংসদের যৌথ স্থায়ী কমিটির অভিবাসন বিষয়ক অনুসন্ধানে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও সামাজিক কাজ ও সামাজিক সেবায় সেই প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হচ্ছে না। বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর জন্য সঠিকভাবে কাজ করতে হলে সামাজিক সেবায় দক্ষ অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্তি জরুরি।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক কাজ বিভাগের লেকচারার ও পিএইচডি গবেষক হুই-ইউ ইয়াও, বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ক্যাথরিন ফ্লিন, গবেষণা ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ফিলিপ মেন্ডেস এবং সিনিয়র লেকচারার ড. অ্যাভেরিল গ্রিভ। তারা চারটি সুপারিশ করেছেন— অভিবাসী দক্ষতা মূল্যায়নের নিয়মিত তথ্য প্রকাশ, আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দক্ষ অভিবাসীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে কাঠামোগত কর্মসূচি চালু এবং বাধ্যতামূলক প্লেসমেন্টে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া।

ইয়াও বলেন, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ওয়ার্ক (AASW) দক্ষতা মূল্যায়ন করে থাকে। তবে তাদের নীতিতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ায় ডিগ্রি শেষ করলেও অতিরিক্ত দক্ষতা মূল্যায়ন ও ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। যুক্তরাজ্য বা নিউজিল্যান্ডে ইংরেজি মাধ্যমে ডিগ্রি শেষ করলেই ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে তা গ্রহণ করা হয়, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় এখনো কঠোর নিয়ম চালু আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও প্লেসমেন্টে বৈষম্যের শিকার হন। শ্রেণিকক্ষে, কর্মক্ষেত্রে এমনকি সহপাঠীদের কাছ থেকেও তারা বর্ণবাদী আচরণের মুখোমুখি হন। পাশাপাশি পড়াশোনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্লেসমেন্টের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মক্ষেত্রে প্রস্তুত হওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

ইয়াও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং প্রায় ২৩ শতাংশ মানুষ ঘরে ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলেন। তবুও নীতিনির্ধারণে একধরনের একভাষিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পাচ্ছে, যা বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

Logo