ইন্দোনেশিয়ার বাটামে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে ৪৩ জন অবৈধ অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ। বাটাম সেন্টার আন্তর্জাতিক ফেরি টার্মিনাল থেকে তাদের যাত্রা রোধ করা হয়। এ ঘটনায় দুইজন দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা পাসপোর্ট প্রক্রিয়া ও ফেরি টিকিট কেনার কাজে সহায়তা করছিলেন।
বাটাম, রেমপাং ও গালাং (বেরেলাং) সিটি পুলিশের প্রধান সিনিয়র কমিশনার আঙ্গগোরো উইচাকসোনো জানান, অভিযুক্ত এনআর প্রতিটি পাসপোর্টের জন্য মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে ২.৭ মিলিয়ন রুপিয়া নিতেন এবং নিজে ১ মিলিয়ন রুপিয়া পেতেন। অপর অভিযুক্ত এএন শ্রমিকদের ফেরি টার্মিনালে নিয়ে যেতেন এবং টিকিট কিনতে সহায়তা করতেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক শ্রমিকরা স্বীকার করেছেন, তারা পর্যটক সেজে সামাজিক ভিজিট পারমিট ব্যবহার করে জোহর বাহরুতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। সফল হলে তারা সেখানে অবৈধভাবে কাজ করতেন।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে তিনটি পাসপোর্ট, তিনটি ফেরি বোর্ডিং পাস, ৪.০৫ মিলিয়ন রুপিয়া নগদ অর্থ এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ইন্দোনেশিয়ান মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স প্রটেকশন আইন এবং ২০২৩ সালের ফৌজদারি আইনের অধীনে মামলা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ বিলিয়ন রুপিয়া জরিমানা।
পুলিশ প্রধান বলেন, মানব পাচার ও অবৈধ শ্রমিক প্রেরণ জনসাধারণের জন্য বিপজ্জনক। তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং বিদেশে চাকরির প্রলোভনে না পড়তে হবে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাটাম বন্দর পুলিশ ১৫৫ জন অবৈধ শ্রমিকের যাত্রা রোধ করেছে।
রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের অভিবাসী শ্রমিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান ইমাম রিয়াদি বলেন, শুধু ফেরি টার্মিনালে নজরদারি নয়, শ্রমিকদের উৎসস্থলেই নজরদারি জোরদার করতে হবে। তিনি সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য ক্রস-বর্ডার পাস চালুর প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেন, যা মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া বৈঠকে আলোচিত হয়েছে।
অন্যদিকে, জোহর বাহরুতে ইন্দোনেশিয়ার কনস্যুলেট ৯ ও ১০ এপ্রিল ২৮১ জন ইন্দোনেশিয়ানকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও অসুস্থ শ্রমিকও ছিলেন। ২০২৫ সালে প্রায় ৬ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যার ৬০ শতাংশই অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কারণে।
কনসাল জেনারেল সিগিত এস. উইদিয়ানতো জানান, প্রতি মাসে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার ইন্দোনেশিয়ান স্বল্পমেয়াদি ভিজিট পারমিট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় কাজ করেন। এর অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় ৪৮৭ বিলিয়ন রুপিয়া। তবে তারা কোনো আইনি সুরক্ষা পান না এবং শোষণ, বেতন না পাওয়া, কারাবাস ও নির্বাসনের ঝুঁকিতে থাকেন।
logo-1-1740906910.png)