Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

বিগত পাঁচ বছরের আশ্রয় আবেদন পুনর্বিবেচনা করবে রিফর্ম ইউকে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২০

বিগত পাঁচ বছরের আশ্রয় আবেদন পুনর্বিবেচনা করবে রিফর্ম ইউকে

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিফর্ম ইউকে দল ঘোষণা করেছে, তারা ক্ষমতায় এলে গত পাঁচ বছরের সব আশ্রয় আবেদন পুনর্বিবেচনা করবে। এতে প্রায় চার লাখ মানুষ বহিষ্কারের মুখে পড়তে পারে।

দলের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা যেসব দেশকে রিফর্ম সরকার নিরাপদ ঘোষণা করবে, তাদের সবাইকে লক্ষ্য করা হবে। রিফর্মের হোম অ্যাফেয়ার্স মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ হবে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে অভূতপূর্ব। তিনি বলেন, “আমরা ব্রিটিশ জনগণের সদিচ্ছাকে আর ব্যবহার করতে দেব না।”

রিফর্মের নেতা নাইজেল ফারাজ আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ছোট নৌকায় আসা কাউকে আশ্রয় দেওয়া হবে না। তার দাবি, এতে পাঁচ বছরে ছয় লাখ মানুষ বহিষ্কৃত হতে পারে। দলটি আরো বলছে, যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ECHR) থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, যাতে বহিষ্কার সহজ হয়। পাশাপাশি পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের অধিকারও বাতিল করতে চায় তারা।

ইউসুফ জানিয়েছেন, তারা ২২ হাজার ৫০০ জনকে রাখার মতো “মডুলার” আটক কেন্দ্র তৈরি করবে। এতে প্রতি মাসে এতজনকে বহিষ্কার করা সম্ভব হবে, বছরে প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে ফেরত পাঠানো যাবে। তিনি আরো বলেন, অবৈধভাবে আসা কারো জন্য কোনো ভাতা বা বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা থাকবে না।

রিফর্মের এই পরিকল্পনা নিয়ে অন্যান্য দল তীব্র সমালোচনা করেছে। কনজারভেটিভরা বলেছে, রিফর্ম তাদের নীতি নকল করছে কিন্তু বিস্তারিত নেই। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা একে “অবাস্তব ও হাস্যকর” বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, পাঁচ বছরের আশ্রয় আবেদন পুনর্বিবেচনা করলে প্রক্রিয়া আরো ধীর হবে। গ্রিন পার্টি বলেছে, এটি মানবিকতার পরিপন্থি এবং সমস্যার মূল কারণ সমাধান করবে না।

লেবার পার্টি জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যেই অভিবাসন কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ বলেছেন, ছোট নৌকায় আসা ৪২ হাজার মানুষকে আটকানো হয়েছে এবং প্রায় ৬০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শরণার্থী কাউন্সিলও রিফর্মের পরিকল্পনাকে “অবাস্তব ও অকার্যকর” বলে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক আশ্রয় আবেদন পুনরায় খোলা হলে আদালত ও প্রশাসন ভেঙে পড়বে এবং এতে করদাতাদের কোটি কোটি টাকা খরচ হবে।

Logo