Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

প্রবাসীদের সরকারি সেবা প্রদানে এগিয়ে পর্তুগাল

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৬

প্রবাসীদের সরকারি সেবা প্রদানে এগিয়ে পর্তুগাল

প্রবাসীদের জন্য বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পর্তুগাল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিজিটাল সরকার ও সেবা সরলীকরণে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। তবে বাস্তবে প্রবাসীরা একদিকে আধুনিক অনলাইন সেবা পাচ্ছেন, অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে ধীরগতি ও জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক সূচকে পর্তুগাল এখন ডিজিটাল প্রশাসনে শীর্ষস্থানীয়। ওইসিডি ডিজিটাল গভর্নমেন্ট ইনডেক্স ২০২৫ অনুযায়ী দেশটি বিশ্বে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল একাদশ। ইউরোপীয় মানদণ্ডেও দেশটি গড়ের ওপরে অবস্থান করছে। ফলে প্রবাসীরা অনেক মৌলিক কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারছেন।

তবে প্রশাসনিক দক্ষতা শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না। আদালতের ধীরগতি, জটিল আইন এবং ঐতিহাসিক আনুষ্ঠানিকতা অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটায়। বিশেষ করে লাইসেন্সিং বা রেসিডেন্সি সংক্রান্ত কিছু প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার সময় দেখা যায়।

ডিজিটাল অবকাঠামোতে দেশটি বড় অগ্রগতি করেছে। জাতীয় পোর্টাল ePortugal শত শত সেবা একত্র করেছে। কোম্পানি নিবন্ধন, কর ঘোষণা, সামাজিক নিরাপত্তা ও ভূমি রেজিস্ট্রি এখন অনলাইনে করা যায়। Simplex কর্মসূচি প্রায় দুই দশক ধরে কাগজপত্র কমানো ও ডিজিটালাইজেশনে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে সেবা পাওয়া যায়।

তবে বাস্তবে কিছু দপ্তর এখনো কাগজপত্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্য সব সময় কার্যকরভাবে প্রক্রিয়াজাত হয় না। এই “হাইব্রিড আমলাতন্ত্র” ডিজিটাল সুবিধার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

প্রক্রিয়ার সময়সীমা ক্ষেত্রভেদে ভিন্ন। ব্যবসা সংক্রান্ত কাজগুলো তুলনামূলক দ্রুত হয়। কোম্পানি নিবন্ধন ও কর রেজিস্ট্রেশন কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব। কিন্তু আদালত-সংশ্লিষ্ট বিষয় বা জটিল লাইসেন্সিংয়ে দীর্ঘ বিলম্ব দেখা যায়।

প্রবাসীদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, একই ধরনের আবেদন ভিন্ন ভিন্ন দপ্তরে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। ফলে পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

যদিও ডিজিটালাইজেশন দ্রুত এগোচ্ছে, অনেক কাজ এখনো সরাসরি অফিসে গিয়ে করতে হয়। বড় শহর যেমন লিসবন ও পোর্তোতে বিদেশিদের জন্য বিশেষ কাউন্টার থাকলেও চাহিদা বেশি হওয়ায় অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হয়। ছোট শহরে অপেক্ষা কম হলেও বিদেশি নথি বোঝার অভিজ্ঞতা কম থাকে।

ভাষাগত বাধাও একটি বড় সমস্যা। বেশির ভাগ নির্দেশনা ও ফর্ম পর্তুগিজ ভাষায় থাকে। ফলে ভুল বা অসম্পূর্ণ আবেদন জমা পড়লে বিলম্ব ঘটে। অনেক প্রবাসী তাই স্থানীয় ভাষাভাষী সহায়তা বা পেশাদার প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করেন।

পর্তুগাল ডিজিটাল প্রশাসনে বিশ্বে এগিয়ে থাকলেও বাস্তবে প্রবাসীদের জন্য অভিজ্ঞতা মিশ্র। অনলাইনে অনেক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে পুরনো আমলাতান্ত্রিক ধারা এখনো বিলম্ব ঘটায়।

Logo