Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: সার সংকটে বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় চাপ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৭

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: সার সংকটে বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় চাপ

আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এখন আর কেবল জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। সার উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা নতুন করে ফসল বাছাই ও উৎপাদন পরিকল্পনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রপস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর দ্য সেমি-অ্যারিড ট্রপিকস (ICRISAT)-এর বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকট ইতোমধ্যেই ভারত, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কৃষি খাতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষকদের ওপর।

বিশ্বজুড়ে সার বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে, একই সঙ্গে পরিবহন খরচ ও বীমা ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কৃষকদের জন্য উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতের মতো দেশ, যেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ সার কাঁচামাল আমদানি করতে হয় এবং ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরতা ৫০ শতাংশের বেশি, সেখানে এই সংকট আরো গভীর। একই ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে কেনিয়া, মালাউই ও নাইজারের মতো দেশগুলোও।

উচ্চমূল্যের কারণে অনেক কৃষক সার ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। এতে খাদ্য সরবরাহ সংকুচিত হতে পারে এবং বাজারে খাদ্যের দাম আরো বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা, যাদের আয় ও খাদ্য নিরাপত্তা সরাসরি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদে সার সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং কৃষকদের সহায়তা দেওয়া জরুরি। তবে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ব্যবস্থাকে আরো টেকসই ও স্বনির্ভর করে তোলার ওপর জোর দিতে হবে।

এক্ষেত্রে ফসল বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডাল, তেলবীজ ও মিলেটের মতো কম ইনপুট নির্ভর ফসল চাষ বাড়ালে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং মাটির উর্বরতাও বাড়বে। একই সঙ্গে সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও মাটির তথ্যভিত্তিক পরামর্শ ব্যবস্থার প্রসার প্রয়োজন।

এছাড়া জ্বালানি খরচ কমাতে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা, গ্রামীণ পর্যায়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন গবেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকট একটি বড় সতর্কবার্তা। বিশ্বের কৃষি ব্যবস্থা এখনো বহুলাংশে আমদানিনির্ভর ও অল্প কয়েকটি সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল। তাই ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন এমন একটি কৃষি ব্যবস্থা, যা হবে বৈচিত্র্যময়, কম ব্যয় নির্ভর এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও টিকে থাকতে সক্ষম।

লেখক: ড. হিমাংশু পাঠক, ডিরেক্টর জেনারেল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রপস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর দ্য সেমি-অ্যারিড ট্রপিকস

Logo