Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ইরান যুদ্ধ ‘ভুল সিদ্ধান্ত’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের কড়া সমালোচনা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৩

ইরান যুদ্ধ ‘ভুল সিদ্ধান্ত’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের কড়া সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়ানোকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস। তিনি বলেন, এই সংঘাত বিশ্বকে আরো নিরাপদ করেনি, বরং অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ‘ইনভেস্ট ইন আমেরিকা’ ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে রিভস এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু যুক্তরাজ্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি হলো উত্তেজনা কমানো এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোনো।

রিভস স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাজ্য সরকার ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধে অংশ নেবে না। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাজ্য সরাসরি জড়িত হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান ছিল এবং সেটি বন্ধ করে সামরিক সংঘাতে জড়ানো সঠিক হয়নি। তার মতে, কয়েক সপ্তাহ আগেও যে আলোচনা চলছিল, সেটি অব্যাহত থাকলে হয়তো বর্তমান পরিস্থিতি এত জটিল হতো না।

রিভস আরো বলেন, গত ছয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাতের লক্ষ্য নিয়েও স্পষ্টতা নেই। এটি কি ইরানে সরকার পরিবর্তনের জন্য, নাকি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য, নাকি নতুন করে আলোচনা শুরু করার উদ্দেশ্যে, তা পরিষ্কার নয়।

এই সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন রিভস।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, এই যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। সংস্থাটি যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়ে ০.৮ শতাংশে নামিয়েছে, যা এর আগে ছিল ১.৩ শতাংশ।

রিভস বলেন, যুক্তরাজ্য একটি গ্যাস আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় এই সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়ছে। তিনি জানান, যুদ্ধ শেষ হলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি কমবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনো ভালো রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, “বন্ধুরা ভিন্নমত পোষণ করতেই পারে।”

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতো নেই বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনের সময় যুক্তরাজ্য পাশে ছিল না এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য চুক্তিতেও পরিবর্তন আনা হতে পারে।

Logo