Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ভুয়া 'নাস্তিক' 'সমকামী' পরিচয়ে আশ্রয় আবেদন, যুক্তরাজ্যে চাঞ্চল্য

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২

ভুয়া 'নাস্তিক' 'সমকামী' পরিচয়ে আশ্রয় আবেদন, যুক্তরাজ্যে চাঞ্চল্য

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার জন্য কিছু অভিবাসীকে ভুয়া সমকামী পরিচয় গ্রহণে সহায়তা করছে একটি গোপন চক্র- এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। অর্থের বিনিময়ে এসব পরামর্শক ও আইনজীবীরা অভিবাসীদের জন্য মিথ্যা গল্প তৈরি, ভুয়া প্রমাণ জোগাড় এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি পর্যন্ত করে দিচ্ছেন।

বিবিসির আন্ডারকভার তদন্তে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারী অভিবাসীদের একটি অংশকে সমকামী পরিচয়ে আশ্রয়ের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তাদের ভুয়া ছবি, সমর্থনপত্র এমনকি চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিও বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দাবি করতে পারেন নিজ দেশে ফিরলে জীবন হুমকির মুখে পড়বে।

যুক্তরাজ্যের আশ্রয় নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব দেশে সমকামিতা নিষিদ্ধ; যেমন পাকিস্তান বা বাংলাদেশ সেসব দেশের নাগরিকরা নির্যাতনের আশঙ্কা দেখিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারেন। তবে এই সুযোগকেই অপব্যবহার করছে একটি অসাধু চক্র, যারা বিপুল অর্থের বিনিময়ে ভুয়া কেস তৈরি করে দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তদন্তে দেখা যায়, কিছু আইনজীবী ও পরামর্শক অভিবাসীদের শেখাচ্ছেন কীভাবে সাক্ষাৎকারে মিথ্যা গল্প বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এমনকি সমকামী সম্পর্কের ভুয়া প্রমাণ হিসেবে ছবি তোলা, ক্লাবে যাওয়ার রেকর্ড তৈরি করা এবং বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থনপত্র জোগাড় করার ব্যবস্থাও তারা করে দিচ্ছে।

একজন পরামর্শক ২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের বিনিময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ “প্যাকেজ” দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যেখানে ভুয়া প্রমাণ তৈরির পাশাপাশি সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতিও অন্তর্ভুক্ত। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের কেস তৈরি করতে ৭ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

তদন্তে আরো উঠে এসেছে, কিছু অভিবাসী চিকিৎসকদের কাছেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিষণ্নতা বা এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার ভান করছেন, যাতে তা আশ্রয় আবেদনের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং প্রকৃত নির্যাতিত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন করে তুলছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতারণামূলক আশ্রয় আবেদন একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ড ও দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তিও হতে পারে।

এদিকে, রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ আশ্রয় ব্যবস্থার সংস্কারের কথাও বলেছেন, যাতে এ ধরনের অপব্যবহার রোধ করা যায়।

Logo