Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

সংকটে ইউরোপের শ্রমবাজার, ফেরত আসছেন বাংলাদেশিরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২০

সংকটে ইউরোপের শ্রমবাজার, ফেরত আসছেন বাংলাদেশিরা

বৈশ্বিক শ্রমবাজারে সংকট দেখা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইতালি থেকেও বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আগামী ২০ এপ্রিল চার্টার্ড ফ্লাইটে ৩০ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। ইতালি সরকার এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছে। দৈনিক সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, এর আগেও দেশটি থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসন, অপরাধে জড়ানো এবং ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন দেশে ভিসায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের কারণে ভিসা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মানব পাচারের ঘটনাও বেড়েছে। গত ৮ এপ্রিল কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের ১৩টি দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা পাওয়া আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভিসা বন্ধ বা কড়াকড়ি, উচ্চশিক্ষার জন্য নানা শর্ত এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সীমিত হয়ে যাওয়ায় অভিবাসন খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরো নেতিবাচক করে তুলছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি পরিবর্তনের আওতায় গত এক বছরে অন্তত ২৪৮ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের অনেককে শিকল ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে অমানবিকভাবে দেশে পাঠানো হয়।

ইতালি থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, যারা সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে তাদের ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট সূচি বদল হয়। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন। কারিতাস-মিগ্রান্তেস ফাউন্ডেশনের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, দেশটির মোট কর্মশক্তির ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেরু ও বাংলাদেশ থেকে আসা নাগরিকের সংখ্যা বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা কয়েকজন জানিয়েছেন, তারা প্রথমে ব্রাজিলে গিয়ে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এভাবে পৌঁছাতে জনপ্রতি ৪৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়। গত বছরের মার্চ থেকে একাধিক দফায় শতাধিক বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

ইউরোপ থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে এসওপি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর ভিত্তিতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যারা ইউরোপে গেছেন, তাদের ফেরত আনা হচ্ছে। গত আট বছরে প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি ইউরোপ থেকে দেশে ফিরেছেন। সবচেয়ে বেশি সাইপ্রাস থেকে; এরপর ইতালি, রোমানিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্স থেকে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার মূলত মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, যার মধ্যে ৬৭ শতাংশ সৌদি আরবে। তবে যুদ্ধের কারণে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কার্যক্রম কমে গেছে। এতে অভিবাসী শ্রমিকরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

ভিসা সুবিধা কমে যাওয়ায় থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইতালি ও ভিয়েতনামে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক দেশ অন অ্যারাইভাল ভিসাও বন্ধ করেছে।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের সহায়তায় ব্র্যাক কাজ করছে। বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ চায় না অনিয়মিত পথে কেউ বিদেশে যাক। তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। শত শত ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে অনেকে কাজে যোগ দিতে পারেননি। এতে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি।

বৈশ্বিক শ্রমবাজারে সংকট ও ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশিদের ফেরত আসার ঘটনা বাড়ছে। এতে অভিবাসন খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো ফেরত আসা ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে কাজ করছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে শ্রমবাজার স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নীতি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

Logo