বিশ্বের যেখানেই ফিলিপিনোরা থাকুক না কেন, তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের দায়িত্ব সরকারের এ কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারো। এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, কোনো ফিলিপিনো যদি মনে করেন তারা নিরাপদ নন, তবে সরকার তাদের পুনর্বাসন ও সহায়তার দায়িত্ব নেবে।
লাজারো জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রবাসীদের দেখভাল করছে। তিনি বলেন, “আজ পর্যন্ত আমরা ইতোমধ্যেই ৫ হাজারের বেশি ফিলিপিনো শ্রমিককে দেশে ফিরিয়েছি। দেশে ফেরার পর তাদের দেখভালের জন্যও আলাদা সরকারি সংস্থা কাজ করছে।”
ফিলিপাইন নিউজ এজেন্সি (PNA) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের জন্য অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। এ কারণে ফিলিপিনোদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
১৩ এপ্রিল ভিলামোর এয়ার বেসে নবম দফায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরিয়ে আনা ফিলিপিনোদের স্বাগত জানান মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স সেক্রেটারি হ্যান্স লিও কাকডাক। তিনি জানান, আরো প্রায় ২ হাজার ২০০ ফিলিপিনোকে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মারকোস জুনিয়রের নির্দেশে সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়ন বিভাগ ইতোমধ্যেই ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি প্রবাসীকে সহায়তা দিয়েছে। এদিকে বাজেট ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ প্রায় ১ বিলিয়ন পিএইচপি বরাদ্দ দিয়েছে, যার মধ্যে ৮০০ মিলিয়ন পিএইচপি মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরতে থাকা ফিলিপিনোদের সহায়তা করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৪০০ জন ফিলিপিনো শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ডিএফএ সচিব লাজারো বলেন, “প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তাই যাদের সহায়তা প্রয়োজন, তারা যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।"
logo-1-1740906910.png)