পর্তুগালে গত এক দশকে বাড়ির দাম বেড়েছে ১৮০ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির হার ৬৪.৯ শতাংশের প্রায় তিন গুণ। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ১৮.৯ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। হাঙ্গেরি সর্বোচ্চ ২১.২ শতাংশ বৃদ্ধির রেকর্ড করেছে।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ প্রান্তিকে পর্তুগালে বাড়ির দাম বেড়েছে ৪ শতাংশ, যা দ্রুততম বৃদ্ধির মধ্যে অন্যতম। পুরো ২০২৫ সালে দাম বেড়েছে ১৭.৬ শতাংশ। অন্যদিকে ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড ও এস্তোনিয়ায় দাম সামান্য কমেছে।
দীর্ঘমেয়াদে দেখা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পর্তুগালে বাড়ির দাম বেড়েছে ১৮০ শতাংশ। হাঙ্গেরি ২৯০ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে শীর্ষে রয়েছে। লিথুয়ানিয়া ও বুলগেরিয়ায়ও যথাক্রমে ১৬৮ ও ১৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। একমাত্র ফিনল্যান্ডে এ সময়ে দাম কমেছে।
ভাড়ার বাজারে বাড়ির দামের তুলনায় বৃদ্ধি কম হলেও চাপ রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে গত দশকে ভাড়া বেড়েছে ২০ শতাংশ, আর পর্তুগালে বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ভাড়া বেড়েছে ৩.২ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম নির্মাণ হারই মূলত দাম বাড়ার প্রধান কারণ। ইউরো অঞ্চলে সবচেয়ে কম নির্মাণ হয় পর্তুগালে, প্রতি হাজার বাসিন্দার জন্য মাত্র তিনটি বাড়ি। উচ্চ জমির দাম, লাইসেন্সিং বিলম্ব ও করের চাপ নির্মাণ ব্যয় বাড়াচ্ছে। ফলে নতুন বাড়ি তৈরি কঠিন হয়ে পড়ছে।
সরকারি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করা, নির্মাণে ভ্যাট ২৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করা এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ১.৩ বিলিয়ন ইউরো ঋণ সহায়তায় ১২ হাজার সাশ্রয়ী বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা। নির্দিষ্ট শর্তে ভাড়া আয়করও কমানো হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু নতুন বাড়ি নির্মাণ নয়, বরং খালি বাড়ি সংস্কার ও ব্যবহার বাড়ানোই দ্রুত সমাধান হতে পারে। কারণ পর্তুগালে খালি বাড়ির হার ইউরোপে অন্যতম বেশি।
logo-1-1740906910.png)