অস্ট্রেলিয়ায় অস্থায়ী অভিবাসীদের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জনসেবা ও আবাসন খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিকে একটি ‘স্থিতিশীল অস্থায়ী জনসংখ্যা’ অর্জনের লক্ষ্যে অভিবাসন টার্গেট নির্ধারণ করতে হবে।
দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ বছরে অস্থায়ী অভিবাসীদের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ২০১০ সালে মোট জনসংখ্যার ২.৭ শতাংশ ছিল অস্থায়ী অভিবাসী, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ শতাংশের বেশি। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাইগ্রেশন হাবের পরিচালক অ্যালান গ্যামলেন এবং এমেরিটাস অধ্যাপক পিটার ম্যাকডোনাল্ড তাদের গবেষণাপত্রে বলেছেন, নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন সংখ্যার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ আসল সমস্যাকে আড়াল করছে।
গ্যামলেন বলেন, অস্থায়ী অভিবাসীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সামাজিক সংহতি, ‘মাস মাইগ্রেশন’ এবং অবকাঠামো ও আবাসন খাতে চাপ বাড়িয়েছে। মহামারির পর সীমান্ত খুলে যাওয়ার পর অভিবাসন হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় উন্নত দেশগুলোতে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কানাডা ২০২৪ সালে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। তারা অস্থায়ী অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে জনসংখ্যার ৭.৬ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নেয়। এর ফলে দেশটিতে আবাসন খরচের চাপ কিছুটা কমেছে। তবে গ্যামলেন মনে করেন, কানাডার পদক্ষেপ খুব দ্রুত নেওয়া হয়েছে, যা অর্থনীতিতে ক্ষতি করেছে।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার উচিত হবে নির্দিষ্ট সংখ্যক অস্থায়ী অভিবাসী গ্রহণ করা এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে স্থায়ী প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা। এতে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্থায়ী বসবাসের সক্ষমতার সঙ্গে অভিবাসন নীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
গ্যামলেন ও ম্যাকডোনাল্ডের মতে, অভিবাসন কমানোই সমাধান নয়, বরং অস্থায়ী অভিবাসনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তারা বলেন, “প্রশ্ন হলো, অস্ট্রেলিয়া কতটা অস্থায়ী জনসংখ্যা বহন করতে সক্ষম। রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় সংখ্যা নয়, বরং বাস্তবসম্মত টার্গেটই ঠিক করতে হবে।”
logo-1-1740906910.png)