Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

হাজারো বাঙালির জয়গানে নিউ ইয়র্কে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উৎসব

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১

হাজারো বাঙালির জয়গানে নিউ ইয়র্কে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে এক মহোৎসব। ১১ এপ্রিল দিনব্যাপী আয়োজিত এই উৎসব প্রবাসী বাঙালিদের সাংস্কৃতিক উপস্থিতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। আয়োজক ছিল ‘এনআরবি ওয়াল্ডওয়াইড’ আর উদ্যোগ নেয় নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেট।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৭টি বর্ণিল পর্বে সাজানো এই উৎসবে অংশ নেন প্রবাসী বাঙালি, আন্তর্জাতিক অতিথি, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, শিল্পী, সাহিত্যিক ও মার্কিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। হাজারো মানুষের জয়গানে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে টাইমস স্কয়ার। উৎসবের সূচনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করেন বিশিষ্টজনরা। বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয় শুভেচ্ছা বার্তা ও ভিডিও।

উৎসবে নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক নেতাদের শুভেচ্ছা বার্তা সবাইকে উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে তোলে। কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দিন আবুল কালামের জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এরপর কার্তিক চন্দ্রের উদ্বোধনী সংগীতে বৈশাখের সুরে ভরে ওঠে টাইমস স্কয়ার।

দিনের প্রথমভাগে গীতাঞ্জলির সংগীত, শিশুদের একক পরিবেশনা, অ্যালভান চৌধুরীর গান, রঞ্জনীর নৃত্য এবং চিত্রর সুরেলা উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। জীবন চৌধুরীর পরিবেশনায় ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’ বিদেশি দর্শকের সামনে বাংলার লোক ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে।

উৎসবকে বৈশ্বিক মাত্রা দেয় নেপাল, লাওস ও থাই কমিউনিটির শিল্পীদের অংশগ্রহণ। তাদের পরিবেশনায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহুরঙা সংস্কৃতি বাংলা নববর্ষের মঞ্চকে আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির প্রতীকে পরিণত করে। একই সঙ্গে ‘ছয় ঋতু’র পরিবেশনায় বাংলার প্রকৃতি ও জীবনদর্শনের নান্দনিক উপস্থাপনা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।

মধ্যাহ্নে সম্মাননা পর্বে বিদেশি অতিথি, সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি ও বিভিন্ন কমিউনিটির নেতারা অংশ নেন। ড. কল্লোল বসুর উপস্থাপনায় এই পর্বে বাংলা নববর্ষকে সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক স্বীকৃতির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরা হয়। পরে স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন অনুষ্ঠান প্রবাসী বাঙালির সাংস্কৃতিক যাত্রাকে দলিলবদ্ধ করে।

বিকেলে নাটক ‘জ্যোতি সংহিতা’, বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা, সলিল চৌধুরী স্মরণে সংগীত, রহমান টিটোর ‘দ্রোহের গান’, আড্ডা ও সৃষ্টি একাডেমির নৃত্য, শাহ মাহবুবের লোকগান এবং ওড়িশি ডান্স একাডেমির শাস্ত্রীয় নৃত্য উৎসবকে নতুন মাত্রা দেয়। বিশেষ করে মঙ্গল শোভাযাত্রার সময় টাইমস স্কয়ার যেন ঢাকার চারুকলার প্রতিরূপে পরিণত হয়।

সন্ধ্যার পর শিশুদের ‘শতকণ্ঠে বর্ষবরণ’ এবং সিনিয়র শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা ছিল দিনটির অন্যতম আকর্ষণ। নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে ভবিষ্যতের বাংলা সংস্কৃতি যেমন ধ্বনিত হয়েছে, তেমনি সিনিয়র শিল্পীদের পরিবেশনায় উঠে এসেছে প্রবাসী জীবনের আবেগ ও স্মৃতি।

সবশেষে কলকাতার রূপর্ণা ও ঢাকার নকুল কুমার বিশ্বাসের সমাপনী সংগীতের মধ্য দিয়ে রাত ১০টায় শেষ হয় উৎসব। আয়োজকরা বলেন, টাইমস স্কয়ারে বাংলা নববর্ষ এখন শুধু একটি উৎসব নয়; এটি বিশ্বে বাংলার সাংস্কৃতিক মর্যাদা, প্রবাসী ঐক্য এবং বহুসাংস্কৃতিক নিউ ইয়র্কে বাঙালির দৃশ্যমান শক্তির প্রতীক।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর এই আয়োজন আবারো প্রমাণ করল, বাঙালির উৎসব আজ বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত এক সাংস্কৃতিক শক্তি, যা ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, ইতিহাস ও কূটনৈতিক সম্প্রীতির মাধ্যমে জাতিগত সীমানা অতিক্রম করেছে।

Logo