বিপুল পরিমাণ অ্যাসাইলাম আবেদন জমা পড়ছে আয়ারল্যান্ডে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৪
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যা অনুপাতে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যায় আয়ারল্যান্ড পঞ্চম স্থানে রয়েছে। প্রতি এক হাজার বাসিন্দার বিপরীতে দেশটিতে ২.৪টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে। যদিও সার্বিকভাবে আবেদন সংখ্যা কমেছে, তবুও আশ্রয় গ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ এবং প্রক্রিয়া দ্রুত করার পরিকল্পনা করছে আইরিশ সরকার।
ইউরোপীয় কমিশনের নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডে প্রায় ১৩ হাজার আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। এর ফলে আবেদন সংখ্যা ২০২২ ও ২০২৩ সালের পর্যায়ে ফিরে এসেছে। জনসংখ্যা অনুপাতে আয়ারল্যান্ডের অবস্থান গ্রিস, সাইপ্রাস, স্পেন ও লুক্সেমবার্গের পরেই।
২০২৫ সালে ইউরোপজুড়ে আশ্রয় আবেদন গড়ে ২৭ শতাংশ কমেছে। তবে লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও হাঙ্গেরিতে আবেদন সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। আয়ারল্যান্ডে নতুন আন্তর্জাতিক সুরক্ষা আইন কার্যকর হতে যাচ্ছে, যাতে আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংস্কার অনুযায়ী, কর্মরত আশ্রয়প্রার্থীদের সাপ্তাহিক আয়ের ১০ থেকে ৪০ শতাংশ আবাসন ব্যয়ের জন্য দিতে হবে। বিচারমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাঘান জানিয়েছেন, এতে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ জন প্রভাবিত হতে পারেন। পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে, শরণার্থীদের স্ত্রী বা সন্তান আনার আগে তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে।
লেবার পার্টির বিচারবিষয়ক মুখপাত্র অ্যালান কেলি এই প্রস্তাবকে “নিষ্ঠুর” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এটি দেশের মূল্যবোধের পরিপন্থি। কারণ নতুন আগতদের জীবনযাপন পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই কঠিন। আইরিশ টাইমস জানিয়েছে, ২০২৩ সালে গৃহহীন অবস্থায় থাকার কারণে দুই আশ্রয়প্রার্থী ক্ষতিপূরণ হিসেবে কয়েক হাজার ইউরো পেয়েছিলেন।
২০২৪ সালে আগমন বাড়ার সময় একক পুরুষদের অনেকেই আবাসনের অভাবে পড়েন। সরকার আবাসন সংকট ও আশ্রয়কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আফগান নাগরিক সামি ইনফো মাইগ্রেন্টসকে বলেন, “প্রয়োজন সারতে আমাদের প্রায় ৬ কিলোমিটার হাঁটতে হয়। এখানে জীবন অসহনীয়, আমি ভেঙে পড়েছি।”
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আয়ারল্যান্ডে ১ হাজার ১২৩টি নতুন আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এর মধ্যে এক-চতুর্থাংশ আবেদনই সোমালিয়ার নাগরিকদের। ২০২৫ সালে মোট ২ হাজার ১৫টি আবেদন নিয়ে সোমালিয়া শীর্ষে রয়েছে। এরপর নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও জর্জিয়া রয়েছে শীর্ষ তালিকায়।
সরকার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন উৎসাহিত করছে। প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তের আগে বা পরে দেশে ফিরলে প্রতি ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ইউরো এবং একটি পরিবার সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত সহায়তা পাচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)