সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৪ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজন জার্মান নাগরিকের একজন অন্য দেশে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। প্রায় ২১ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, তারা উন্নত জীবনের সন্ধানে জার্মানি ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। আর ৪১ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদে বিদেশে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।
‘ইউগেন্ড ইন ডয়েচলান্ড’ শীর্ষক এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে ডেটাজকি ফেরলাগ। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে ২ হাজার ১২ জন তরুণের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই জরিপে উঠে এসেছে তরুণদের উদ্বেগের নানা কারণ। তারা বলছেন, জার্মানির অর্থনীতির স্থবিরতা, ক্রমবর্ধমান আবাসন খরচ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের কারণে চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ করছে।
সমীক্ষার পরিচালক জিমন শ্নেৎসার বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর চাপ তরুণদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অভাববোধ তাদের দেশ ছাড়ার চিন্তা বাড়াচ্ছে।
হামবুর্গের আইন শিক্ষার্থী ফ্রেডেরিক জানান, তিনি টোকিওতে কয়েক মাস থাকার অভিজ্ঞতায় মুগ্ধ হয়ে আগামী বছর সেখানে যাওয়ার কথা ভাবছেন। তার মতে, জাপানে জীবনযাত্রা শান্তিপূর্ণ ও পরিচ্ছন্ন। তবে তিনি ভিয়েনা, লন্ডন বা প্যারিসেও থাকার কথা বিবেচনা করছেন।
২০২৪ সালে ডিস্টাটিসের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ সুইজারল্যান্ডে যেতে চান। এরপর অস্ট্রিয়া, বিশেষত ভিয়েনা, উন্নত জীবনযাত্রার মান ও নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিষেবার কারণে শীর্ষে রয়েছে। মার্সারের জরিপে জুরিখ ও ভিয়েনা বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় প্রথম সারিতে স্থান পেয়েছে।
জার্মানি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হলেও তরুণদের একাংশ মনে করছেন, উন্নত জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তার জন্য অন্য দেশে যাওয়া প্রয়োজন। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, আবাসন সংকট এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে তারা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে হতাশ।
এই সমীক্ষা স্পষ্ট করেছে, জার্মানির তরুণরা শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণেও দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন। উন্নত জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীল ভবিষ্যতের আশায় তারা বিদেশে নতুন সম্ভাবনা খুঁজছেন।
logo-1-1740906910.png)