অস্ট্রেলিয়ায় রেকর্ড পরিমাণ স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:২৯
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অর্ধেকের বেশি আবেদন বাতিল হয়েছে। এতে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে অফশোর থেকে জমা দেওয়া উচ্চশিক্ষার ভিসা আবেদনের মাত্র ৬৭.৬ শতাংশ অনুমোদিত হয়েছে। এটি গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার ছিল ৬৮.১ শতাংশ।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। ফেব্রুয়ারিতে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে ৫১ শতাংশই বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সুযোগ হারিয়েছেন। অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ছিল ভুটানে ৩৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩৮ শতাংশ, ভারতে ৪০ শতাংশ এবং নেপালে সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ।
অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা এখন আবেদনকারীরা “আসল শিক্ষার্থী” কিনা তা যাচাইয়ে আরো সতর্ক হচ্ছেন। এ কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো থেকে আবেদনও বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে আবেদন বেড়েছে ৫১ শতাংশ, ভারত থেকে ৩৬ শতাংশ এবং নেপাল থেকে ৯১ শতাংশ। বিপরীতে চীন থেকে আবেদন কমেছে ৩৯ শতাংশ, যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এই পরিবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও প্রভাবিত করছে। ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার কোনো প্রতিষ্ঠানের “রিস্ক রেটিং” নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। রিস্ক রেটিং বেশি হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী আকর্ষণ কমে যায় এবং আবেদনগুলো আরো কঠোরভাবে যাচাই করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা সংগঠনগুলো এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, রিস্ক রেটিং পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা উচিত। কারণ ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার এত বেশি যে তা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি বড় ধাক্কা। প্রতি বছর হাজারো শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেদনকারীদের আরো সতর্কভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে।
logo-1-1740906910.png)