জার্মানির নতুন আইন: বিদেশে দীর্ঘ সময় থাকলে লাগবে অনুমতি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৪
জার্মানি সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে ‘মিলিটারি সার্ভিস মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’ বা সামরিক পরিষেবা আধুনিকীকরণ আইন। নতুন এই আইনের একটি ধারায় বলা হয়েছে, ১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষরা তিন মাসের বেশি সময় বিদেশে থাকতে চাইলে আগে সশস্ত্র বাহিনীর অনুমোদন নিতে হবে।
জার্মান সংবাদপত্র ফ্রাঙ্কফুর্টার রুন্ডশাউ প্রথম বিষয়টি সামনে আনে। সরকারের দাবি, এটি মূলত একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। যদি ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ পুনরায় চালু হয়, তবে সম্ভাব্য নিয়োগপ্রাপ্তদের ট্র্যাক বা নজরদারিতে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জার্মানিতে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাধীন। তবে নতুন আইন অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সীদের সামরিক পরিষেবার উপযুক্ততা যাচাই করতে একটি প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষরা বিদেশে তিন মাসের বেশি থাকতে চাইলে বুন্দেসভের ক্যারিয়ার সেন্টার থেকে অনুমোদন নিতে হবে।”
তবে কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, আপাতত এই নিয়মের কোনো বড় প্রভাব পড়বে না। এর জন্য কোনো শাস্তির বিধান রাখা হয়নি এবং সাধারণত নিয়মমাফিকভাবেই অনুমোদন দেওয়া হবে। মুখপাত্র আরো জানান, স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও একই ধরনের নিয়ম চালু ছিল, কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ হয়নি।
তবুও এই ধারাটি তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই পড়াশোনার বিরতি, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, নতুন চাকরি কিংবা দীর্ঘ ছুটির পরিকল্পনা করেন। নতুন নিয়ম তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রেডিটে একজন ব্যবহারকারী রসিকতা করে লিখেছেন, “তাহলে আমরা কি প্রতিদিন তিন মাসের জন্য আবেদন ফ্যাক্স করতে থাকব?”
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে ছাড় দেওয়ার একটি খসড়া তৈরি হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩৫ সালের মধ্যে জার্মানির সশস্ত্র বাহিনীর আকার বর্তমানের প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার সদস্য থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৭০ হাজারে উন্নীত করা।
রাশিয়ার হুমকি এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার জবাবে জার্মানি সামরিক প্রস্তুতি আরো বাড়াচ্ছে। নতুন আইন মূলত জাতীয় জরুরি অবস্থায় দ্রুত সেনা নিয়োগের সক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্যই প্রণীত হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)