পর্তুগালে ভাড়া নিতে গেলে বিদেশিদের জন্য এখন নিয়ম আরো কঠোর হয়েছে। লিখিত চুক্তি, ভাষা ও কর নিবন্ধনসহ নানা বিষয় যাচাই না করলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিশেষ করে লিসবন ও পোর্তোর মতো শহরে প্রতিযোগিতা বেশি এবং ভাড়া তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রাভেলার জানিয়েছে, ২০২৬ সালে পর্তুগালের ভাড়া বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, তবে দাম অঞ্চলভেদে ভিন্ন। লিসবন ও পোর্তোর কেন্দ্রীয় এলাকায় ভাড়া এখনো অনেক বেশি, অন্যদিকে ছোট শহর ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে ভাড়া কিছুটা কমেছে। উদাহরণস্বরূপ, ৮০ বর্গমিটার ফ্ল্যাট কিছু শহরে মাসে ৫০০ থেকে ৫৮০ ইউরোতে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে বড় শহরে একই জায়গার জন্য অনেক বেশি ভাড়া দিতে হয়।
পর্তুগালে ভাড়া আইন মূলত সিভিল কোড ও Urban Tenancy Regime (NRAU) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বিদেশিরা স্থানীয়দের মতোই একই সুরক্ষা পান। সাধারণত দুই ধরনের চুক্তি প্রচলিত- দীর্ঘমেয়াদি (১ থেকে ৫ বছর) এবং স্বল্পমেয়াদি (৩ থেকে ১১ মাস)। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি কর কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধিত হয় এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য বেশি সুরক্ষা দেয়। মৌখিক চুক্তি বা লিখিত চুক্তি ছাড়া ভাড়া নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে আইনি সুরক্ষা পাওয়া যায় না।
নতুন চুক্তিতে ভাড়া নির্ধারণে কোনো জাতীয় সীমা নেই। তবে চলমান চুক্তিতে ভাড়া বাড়ানো হয় সরকারি সূচকের ভিত্তিতে। সাধারণত বছরে একবার ভাড়া বাড়ানো যায় এবং বাড়িওয়ালাকে অন্তত ৩০ দিন আগে লিখিতভাবে জানাতে হয়। নিরাপত্তা জামানত সাধারণত এক থেকে দুই মাসের ভাড়া সমান হয়। অনেক সময় বাড়িওয়ালা অগ্রিম আরো এক বা দুই মাসের ভাড়া চাইতে পারেন।
ভাড়াটিয়ারা সময়মতো ভাড়া দেওয়া, বাড়ির নিয়ম মেনে চলা এবং বড় ধরনের মেরামতের বিষয় বাড়িওয়ালাকে জানানো; এসব দায়িত্ব পালন করতে হয়। অন্যদিকে বাড়িওয়ালা আদালতের অনুমতি ছাড়া তালা পরিবর্তন বা বিদ্যুৎ-পানি বন্ধ করতে পারেন না। চুক্তি ভাঙতে চাইলে সাধারণত মেয়াদের এক-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হওয়ার পর লিখিত নোটিশ দিয়ে তা করা যায়। নোটিশের সময়সীমা সাধারণত ৬০ থেকে ১২০ দিন।
চুক্তি কর কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধিত না হলে ভাড়াটিয়া বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন। অনেক বাড়িওয়ালা কর এড়াতে অনানুষ্ঠানিক চুক্তি করেন বা রসিদ দেন না। এতে ভাড়াটিয়ার ঠিকানা প্রমাণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা স্কুলে ভর্তি করানো কঠিন হয়ে যায়। তাই লিখিত ও কর নিবন্ধিত চুক্তি করা জরুরি।
লিসবন ও পোর্তোতে প্রতিযোগিতা বেশি এবং ভাড়া অনেক বেশি। ছোট শহর ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম এবং আলোচনার সুযোগও থাকে। তবে এসব জায়গায় বাড়ির মান কিছুটা কম হতে পারে।
পর্তুগালে বিদেশিদের জন্য ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লিখিত চুক্তি, কর নিবন্ধন, ভাড়া বৃদ্ধির নিয়ম যাচাই এবং নিরাপত্তা জামানতের সঠিক উল্লেখ। বড় শহরে প্রতিযোগিতা বেশি হলেও ছোট শহরে ভাড়া তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। সঠিক চুক্তি ও নথিপত্র নিশ্চিত করলে বিদেশিরা নিরাপদে দীর্ঘমেয়াদি ভাড়া নিতে পারবেন।
logo-1-1740906910.png)