ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ঝুঁকিতে এশিয়ার অভিবাসী শ্রমিকরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৫২
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার অভিবাসী শ্রমিকদের জীবন ও কর্মসংস্থান মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরাসরি হামলা ও সহিংসতায় বহু শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট সিঙ্গাপুরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়া বিশ্বে সবচেয়ে বড় অভিবাসী শ্রমিক সরবরাহকারী অঞ্চল। বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ আন্তর্জাতিক অভিবাসীর মধ্যে ৬ কোটি ৯০ লাখ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। এর অর্ধেকের বেশি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশগুলোতে কর্মরত। ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন প্রধান শ্রমিক সরবরাহকারী দেশ।
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম প্রাণহানি ঘটে ইসরায়েলে। ৩২ বছর বয়সী এক ফিলিপিনা গৃহপরিচারিকা ১ মার্চ তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত গালফ অঞ্চলে বিভিন্ন ঘটনায় আটজন ভারতীয় নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। বিবিসির তথ্যমতে, অন্তত ১২ জন দক্ষিণ এশীয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে আবুধাবিতে কর্মরত এক নেপালি নিরাপত্তাকর্মী এবং দুবাইয়ে রমজান মাসে নিহত এক বাংলাদেশি রয়েছেন।
যদিও মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু পুনর্বাসন ফ্লাইট চালু হয়েছে, তবুও অনেক শ্রমিক দেশে ফিরতে পারছেন না। তাদের পরিবার রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা থেকে যাচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি যুদ্ধের কারণে সংকটে পড়ায় দেশে ফিরে গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও কমে যাবে। ফিলিপাইনের গৃহকর্মীরা প্রতিদিনের বোমা হামলার ভেতরেও থেকে যাচ্ছেন পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে।
হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার নাবিক। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ২০টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। এতে ১০ জন নাবিক ও একজন শিপইয়ার্ড কর্মী নিহত হয়েছেন, চারজন এখনো নিখোঁজ।
অভিবাসী শ্রমিকদের প্রাণহানি ও কর্মসংস্থানের সংকট শুধু পরিবার নয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা দিচ্ছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো রেমিট্যান্সের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে শ্রমবাজার সংকুচিত হবে এবং অভিবাসী শ্রমিকদের জীবন আরো বিপন্ন হয়ে উঠবে।
logo-1-1740906910.png)