মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ধাক্কা
খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৫০
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি ও সমাজে গভীর সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বর্তমান তেলের মূল্যবৃদ্ধি কেবল একটি ধাপ, এর পরবর্তী ধাপগুলোতে খাদ্য সংকট ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট সিঙ্গাপুরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্য ডিপ্লোম্যাটের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সংকট চার ধাপে বিস্তৃত হতে পারে। প্রথম ধাপ হলো তেলের দাম বৃদ্ধি, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ধাপ হলো মুদ্রাস্ফীতি, যা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তৃতীয় ধাপে সরকারগুলোকে জনগণের জন্য ভর্তুকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে বাড়তি ব্যয় করতে হবে। আর চতুর্থ ধাপে খাদ্য সংকট ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো অতীতে একাধিক সংকট মোকাবিলা করেছে ১৯৭৩ সালের তেল সংকট, ১৯৯৭-৯৮ সালের এশীয় আর্থিক সংকট, ২০০৭-০৮ সালের খাদ্য মূল্য সংকট এবং কোভিড-১৯ মহামারি। বর্তমান পরিস্থিতিও একই ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা উচিত।
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর ইতোমধ্যেই ভর্তুকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ কেবল সাময়িক সুরক্ষা দিতে পারে, কাঠামোগত দুর্বলতা মোকাবিলা করতে যথেষ্ট নয়। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারগুলো কি বারবার একই ধরনের জরুরি পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এবার ভিন্ন কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করবে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সতর্ক করেছে, যুদ্ধের কারণে মুদ্রাস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং ঋণ ঝুঁকি বাড়তে পারে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মতো থিঙ্ক-ট্যাঙ্কও সতর্ক করেছে যে সংকট কেবল জ্বালানি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এই সংকট কতটা গভীরে যাবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হয় এবং প্রতিটি দেশের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং সরকারগুলো কাঠামোগত দুর্বলতা কাটাতে না পারে, তাহলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া খাদ্য সংকট ও সামাজিক অস্থিরতার মুখোমুখি হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)