Logo
×

Follow Us

এশিয়া

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত ভারতের পর্যটন খাত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৫৯

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত ভারতের পর্যটন খাত

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ভারতের পর্যটন শিল্পে। বিদেশি পর্যটকদের আগমন কমে যাওয়ায় এবং ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণ বাতিল হওয়ায় পর্যটন ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় তেল ও গ্যাসের বাণিজ্যে ধাক্কা, শেয়ারবাজারে পতন; সব মিলিয়ে ভারতের পর্যটন খাতও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিদেশি পর্যটকরা বুকিং বাতিল করছেন, আবার ভারতীয় পর্যটকদের বিদেশ ভ্রমণও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটর্স (IATO)-এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট প্রণব সরকার জানিয়েছেন, সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বিদেশি পর্যটকরা ভারতে বেশি আসেন। রমজান-ইদের সময়ও ইউরোপ, কানাডা ও পশ্চিম এশিয়া থেকে পর্যটক আসেন। এ বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যবসা ভালো চললেও মার্চ থেকে বুকিং প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের ছুটিতে আসার পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে, আর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের বুকিংও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

সংস্থার প্রেসিডেন্ট রবি গোঁসাই বলেন, যুদ্ধের কারণে বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় বিদেশি পর্যটকদের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। ফলে সংস্থাগুলোর ব্যবসা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, এই সময়ে আবহাওয়া ও সাংস্কৃতিক উৎসব বিদেশি পর্যটকদের টানে, কিন্তু এবার শেষ মুহূর্তে ভ্রমণ বাতিল করতে হচ্ছে।

সংস্থাগুলোর দাবি, তাদের ব্যবসার ৭০-৭৫ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। তাই তারা বিকল্প পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যেমন ভ্রমণসূচি বদলের প্রস্তাব দিয়ে ক্রেডিট নোট দেওয়া, যা ৯-১২ মাস পর্যন্ত বৈধ থাকবে। এতে পর্যটকরা পরে ভ্রমণ করতে পারবেন এবং আস্থা ফিরবে।

বিদেশি পর্যটকদের অনুপস্থিতিতে আইএটিওর সদস্যরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার মতো নতুন বাজার ধরার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে ভারতীয় পর্যটকদের বিদেশ ভ্রমণ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (TAAI) পূর্বাঞ্চলীয় চেয়ারম্যান অঞ্জনি ধানুকা জানিয়েছেন, যুদ্ধ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশীয় পর্যটনও অর্ধেক কমে গেছে। আমেরিকা ও ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনা করা পর্যটকরা তা বাতিল করেছেন।

টিএএআই প্রেসিডেন্ট সুনীল কুমার বলেন, গোটা দেশেই একই অবস্থা। তাদের ২০০০-এর বেশি সদস্য সংস্থার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই তারা দেশীয় পর্যটনকেই বিকল্প হিসেবে প্রচার করছেন।

রবি গোঁসাই মনে করেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারের আর্থিক সহায়তা ছাড়া পর্যটন খাত টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। তিনি আর্থিক ত্রাণ প্রকল্প, কার্যকরী মূলধন সহজলভ্য করা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

Logo