মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা করেছেন যে সরকারি কর্মীরা এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে বাড়ি থেকে কাজ করবেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জ্বালানি খরচ কমানো এবং টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা মালয়েশিয়ার জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
রয়টার্সের সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক বিবৃতিতে বলেন, “এই নীতির উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং জ্বালানি সরবরাহের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।” তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রোনাসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল থেকে মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং সরকার-সম্পৃক্ত কোম্পানির কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। এটি মালয়েশিয়ার ইতিহাসে অন্যতম বড় কর্মসংস্থান নীতি পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ শুধু জ্বালানি খরচ কমাবে না, বরং পরিবেশবান্ধব কর্মপদ্ধতি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। অফিসে যাতায়াত কমে গেলে জ্বালানি ব্যবহার কমবে এবং কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাবে।
তবে সমালোচকরা মনে করছেন, হঠাৎ করে বাড়ি থেকে কাজের নীতি কার্যকর হলে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিভাগে সরাসরি জনসেবা দেওয়া হয়, সেখানে কর্মীদের উপস্থিতি জরুরি। সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা পরে দেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে জ্বালানি খরচ একটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে সরকার মাসে প্রায় ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত অতিরিক্ত ব্যয় করছে। এই ব্যয় কমাতে বাড়ি থেকে কাজের নীতি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)