ইতালিতে জন্মহার কমছে; শ্রমঘাটতি পূরণে অভিবাসনই ভরসা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৪
ইতালির জনসংখ্যা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৫৮.৯৪ মিলিয়ন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত। আইস্ট্যাটের বার্ষিক জনসংখ্যা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন প্রবাহই মূলত জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতাকে থামিয়ে দিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালিতে জন্মহার দীর্ঘদিন ধরে কমছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, জন্মহার রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। তবে অভিবাসীদের আগমন সেই ঘাটতি পূরণ করেছে। ২০২৫ সালে বিদেশি বাসিন্দাদের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৮৮ হাজার জন হয়েছে, ফলে মোট বিদেশি জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫.৫৬ মিলিয়ন।
আইস্ট্যাট বলছে, ইতালি এমন একটি দেশ যেখানে জনসংখ্যার প্রাকৃতিক পরিবর্তন নেতিবাচক হলেও অভিবাসন প্রবাহই জনসংখ্যাকে স্থিতিশীল রাখছে। একই সঙ্গে দেশটির গড় আয়ু বাড়ছে, যা জনসংখ্যার বয়স কাঠামোকে আরো প্রবীণমুখী করে তুলছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনসংখ্যা স্থিতিশীল হওয়া ইতালির অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের জন্য ইতিবাচক খবর। দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা কমতে থাকায় শ্রমশক্তি সংকট দেখা দিয়েছিল। অভিবাসীরা সেই সংকট কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও কৃষি খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান বাড়ছে।
তবে জন্মহার কমে যাওয়ার প্রবণতা এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। আইস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ইতালিতে জন্মহার ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর ফলে ভবিষ্যতে জনসংখ্যার বয়স কাঠামো আরও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে পারে। তরুণদের সংখ্যা কমে গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চাপে পড়বে।
সরকারি নীতিনির্ধারকরা বলছেন, অভিবাসন প্রবাহ ইতালির জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে ঠিকই, তবে দীর্ঘমেয়াদে জন্মহার বাড়ানোর জন্য পরিবারবান্ধব নীতি গ্রহণ জরুরি। শিশু লালন-পালন সুবিধা, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং আর্থিক প্রণোদনা বাড়ানো হলে তরুণ পরিবারগুলো সন্তান নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত হবে।
logo-1-1740906910.png)