দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে হাউজিং সংকটের জন্য অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দায়ী করে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, অভিবাসীরা বাড়ি দখল করে রাখায় নাগরিকরা বাসস্থানের সংকটে পড়ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুক্তি থেকেই হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট (HUD) সংস্থা এখন অভিবাসন আইন প্রয়োগে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
হুদ এখন হাজারো মানুষের তথ্য যাচাই করছে এবং সেগুলো হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে ভাগ করছে। এর ফলে শুধু অনথিভুক্ত অভিবাসী নয়, তাদের সঙ্গে বসবাসরত বৈধ নাগরিকরাও বাড়ি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। সমালোচকরা বলছেন, এটি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ, যা হাউজিং সংকট সমাধানের পরিবর্তে অভিবাসীদের টার্গেট করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি কার্যত অভিবাসীদের ঘর থেকে উচ্ছেদ করার প্রচেষ্টা। এর ফলে অনেক পরিবার একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাউজিং সংকটের মূল কারণ হলো দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, বাড়তি ভাড়া এবং বাজারে নতুন বাড়ি নির্মাণের ধীরগতি। কিন্তু প্রশাসন অভিবাসীদের দায়ী করে সমস্যার সমাধান না করে আরো জটিলতা তৈরি করছে।
হুদের এই পদক্ষেপকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এটি শুধু অভিবাসীদের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কারণ একই পরিবারে বৈধ ও অনথিভুক্ত সদস্য থাকলে সবাইকে উচ্ছেদ করা হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, হাউজিং সংকট মোকাবিলায় সরকারের উচিত নতুন বাড়ি নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানো, ভাড়া নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি করা। কিন্তু বর্তমান নীতি এসবের পরিবর্তে অভিবাসীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
logo-1-1740906910.png)