Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

লিবিয়ার বন্দিশালায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যু

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২২

লিবিয়ার বন্দিশালায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যু

লিবিয়ার একটি বন্দিশালায় মারা গেছেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দুই যুবক। উন্নত জীবনের আশায় অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তারা মানব পাচারকারী দালালের ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দালালদের হাতে লাখ লাখ টাকা খোয়ানোর পরও শেষ পর্যন্ত ছেলেকে বাঁচাতে পারেননি এক বাবা।  

দক্ষিণ জনারদন্দি গ্রামের ইলিয়াস হাওলাদার প্রায় তিন বছর আগে কাতারে যান। সেখানে এক বাংলাদেশি দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন। গত বছরের আগস্টে তিনি কাতার থেকে লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখানে একটি বন্দিশালায় আটক রেখে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু গত ২৩ মার্চ বন্দিশালায়ই তার মৃত্যু হয়। চার দিন পর স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে পরিবার বিষয়টি জানতে পারে।  

বড় ছেলেকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ তার বাবা-মা। স্ত্রী বিথি ও দুই বছরের একটি সন্তান নিয়ে পরিবারটি এখন অসহায় অবস্থায় রয়েছে। ইলিয়াসের মা রানু বেগম বলেন, “আমরা কোনো বিচার চাই না, শুধু আমার ছেলের লাশটা দেশে ফিরে আসুক।”  

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দালাল হাবিব মাস্টার ওরফে হাবিবুর রহমান খন্দকার ডাসার উপজেলার গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার মাধ্যমে শতাধিক যুবক বর্তমানে লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক রয়েছেন।  

অন্যদিকে, একইভাবে নির্যাতনে গত ১৮ মার্চ লিবিয়ার বন্দিশালায় মারা যান ফারুক হাওলাদার। তার পরিবার ২৫ মার্চ এ খবর জানতে পারে। ফারুক দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। উন্নত জীবনের আশায় চার মাস আগে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় যান। সেখানে তাকে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরে ইতালি নেওয়ার কথা থাকলেও নির্যাতনের এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।  

২৮ মার্চ ফারুকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ভাঙাচোরা টিনশেড ঘরে তার পরিবার বসবাস করছে। মা মালেকা বেগম, স্ত্রী লাবনী আক্তার এবং দুই সন্তান নিয়ে পরিবারটি এখন দারিদ্র্য আর শোকে ভেঙে পড়েছে। মালেকা বেগম বলেন, “ছেলেটা আর বাঁচল না। ও ছাড়া আমরা কীভাবে বাঁচব?” ফারুকের শাশুড়ি নাজমা বেগম বলেন, “দালাল বলেছে লাশ এনে দেবে। লাশ আসার পর আমরা বিচার চাইব।”  

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দালালদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Logo