গ্রিস উপকূলে নৌকাডুবি, প্রাণ গেল ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২০
গ্রিস উপকূলে ভয়াবহ নৌকাডুবিতে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন। ছয় দিন ধরে সমুদ্রে ভেসে থাকার পর তাদের মৃত্যু হয় এবং মৃতদেহগুলোকে পাচারকারীরা সাগরে ফেলে দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর তোব্রুক থেকে ২১ মার্চ একটি রাবারের নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিসের উপকূলে কমপক্ষে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তারা উত্তর আফ্রিকা থেকে রাবারের নৌকায় করে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাচ্ছিলেন। ওই যাত্রা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা শনিবার গ্রিসের কোস্টগার্ডকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং চাদের একজন নাগরিক জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।
নৌকায় থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা পথ হারিয়ে ছয় দিন ধরে সমুদ্রে ভেসেছিলেন। খাবার ও পানির অভাবে একে একে ২২ জন মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে তাদের মৃতদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। গ্রিস কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। দুজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হেরাক্লিয়নের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাচারকারীদের মধ্যে দুইজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। তারা নৌকায় থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ন্ত্রণ করছিল এবং মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল।
লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপগামী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর দেশটিতে অস্থিরতা বাড়ে এবং মানব পাচারকারীরা এ সুযোগ কাজে লাগায়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, শুধু ২০২৫ সালে ক্রিট দ্বীপে ১৬ হাজার ৭৭০ জন আশ্রয়প্রার্থী পৌঁছেছেন। একই সময়ে গ্রিসের জলসীমায় অন্তত ১০৭ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লিবিয়ার জুয়ারা উপকূলে একটি নৌকা ডুবে ৫৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা যান বা নিখোঁজ হন। জানুয়ারিতে চরম আবহাওয়ার কারণে অন্তত ৩৭৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়।
logo-1-1740906910.png)