লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ আবারো প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নামক আন্দোলন সমর্থনকারীদের গ্রেপ্তার শুরু করেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা শিল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছে। তারা বিশেষ করে ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসের কারখানা ও অফিসে বিক্ষোভ করেছে। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, এসব প্রতিষ্ঠান ফিলিস্তিনে দমন-পীড়ন ও যুদ্ধকে সহায়তা করছে।
মেট পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের কর্মকাণ্ডে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং আইন ভঙ্গ হচ্ছে। তাই যারা প্রকাশ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করছেন বা তাদের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি অভিযান চালানো হবে। পুলিশের দাবি, এটি জননিরাপত্তা রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ।
তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা মনে করেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও সংহতি প্রকাশ করা কোনো অপরাধ নয়। গ্রেপ্তারি অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আইন বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, সমর্থন প্রকাশ করা আর সরাসরি আইন ভঙ্গ করা এক বিষয় নয়। শুধু কোনো আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতি দেখানো বা সামাজিক মাধ্যমে সমর্থন জানানোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলে তা বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন জানিয়েছে, তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তাদের মতে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাজ্যে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া মানে ফিলিস্তিনে দমন-পীড়নকে সমর্থন করা। তারা বলছে, গ্রেপ্তারি অভিযান তাদের ভয় দেখাতে পারবে না।
লন্ডন মেট পুলিশের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে পুলিশ বলছে জননিরাপত্তার স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন এটি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত আদালত ও জনমত উভয় ক্ষেত্রেই বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
logo-1-1740906910.png)