Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

প্রতি সপ্তাহে ২৫ জন মার্কিন ডিপোর্টি নেবে কোস্টারিকা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩০

প্রতি সপ্তাহে ২৫ জন মার্কিন ডিপোর্টি নেবে কোস্টারিকা

কোস্টারিকা ঘোষণা করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি সপ্তাহে ২৫ জন অভিবাসী গ্রহণ করবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক ডিপোর্টেশন নীতির অংশ হিসেবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশটি এখন আফ্রিকা ও আমেরিকার আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্ত হলো, যারা মার্কিন ডিপোর্টিদের গ্রহণে সম্মত হয়েছে।  

কোস্টারিকার জননিরাপত্তা মন্ত্রী মারিও জামোরা কর্দেরো বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “কোস্টারিকা এই প্রবাহ সামলাতে প্রস্তুত।” সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ক্রিস্টি নোমের সফরের সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নোম সম্প্রতি ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ উদ্যোগের দায়িত্ব পেয়েছেন।  

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কোস্টারিকায় বিদেশি নাগরিকদের পাঠাতে পারবে, যদিও তারা কোস্টারিকার নাগরিক নন। সরকার জানিয়েছে, এটি একটি “অ-বাধ্যতামূলক অভিবাসন চুক্তি” এবং তারা প্রস্তাবিত ডিপোর্টিদের গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের অধিকার রাখে। ডিপোর্টিদের কোস্টারিকার অভিবাসন আইনের আওতায় বিশেষ মর্যাদায় প্রক্রিয়াজাত করা হবে এবং যেসব দেশে নিপীড়নের ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে ফেরত পাঠানো হবে না।  

তবে এই ধরনের “তৃতীয় দেশ” চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এতে অভিবাসীরা আইনি অনিশ্চয়তায় পড়ে যান এবং অনেক সময় বিপজ্জনক দেশে পাঠানো হয়। গত বছর কোস্টারিকা রাশিয়া, চীন, উজবেকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা ২০০ জন ডিপোর্টি গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ছিল শিশু। তাদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয় এবং মাসের পর মাস সীমান্তবর্তী একটি গ্রামীণ আটককেন্দ্রে রাখা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।  

নতুন চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে জামোরা আশ্বাস দিয়েছেন, এবার ডিপোর্টিদের ভালো পরিবেশে রাখা হবে। তিনি বলেন, কোস্টারিকা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে, যাতে অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।  

ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই আফ্রিকার সাতটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কার্যত সেই আইনকে পাশ কাটানোর চেষ্টা, যা মানুষকে বিপজ্জনক দেশে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ করে। অনেক অভিবাসী মার্কিন আদালত থেকে সুরক্ষা পেয়েছিলেন, যাতে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো না হয়।  

ডেমোক্র্যাটিক সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই প্রায় ৩০০ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশে পাঠাতে ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

Logo