ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে চারজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তারা আলাদা শহর ও প্যানেল থেকে জয়ী হয়ে স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটিতে আনন্দের সঞ্চার করেছেন।
গত ১৫ মার্চ প্রথম দফার ভোটে সাঁ-দনি শহর থেকে জয় নিশ্চিত করেন নাহিদুল ইসলাম। এরপর দ্বিতীয় দফার ভোটে বিজয়ী হন আরো তিনজন; স্তা শহর থেকে কৌশিক রাব্বানী খান, ক্রেতেই শহর থেকে ফাহিম মোহাম্মদ এবং ইভ্রি-সুর-সেন শহর থেকে জুবায়ের আহমেদ।
প্রথমবারের মতো চার বাংলাদেশি প্রার্থীর এই বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ফরাসি মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
নাহিদুল ইসলাম বামপন্থি দল ‘লা ফ্রঁস আঁসুমিজ’ (এলএফআই) সমর্থিত প্যানেল থেকে জয় পেয়েছেন। কৌশিক রাব্বানী খান পুনরায় নির্বাচিত হয়ে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফরাসি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং অভিবাসীদের প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে পরিচিতি লাভ করেছেন।
২৫ বছর বয়সী তরুণ ফাহিম মোহাম্মদ শৈশবে ফ্রান্সে আসেন। একসময় অনিয়মিত অবস্থায় থাকলেও দাবায় সাফল্যের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত হন। বর্তমানে তিনি একজন ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট এবং এবার ফরাসি সোশ্যালিস্ট পার্টির (পিএস) প্যানেল থেকে ক্রেতেই শহরে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
ইভ্রি-সুর-সেন শহর থেকে প্রথমবারের মতো জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার জুবায়ের আহমেদ। তিনি ফিলিপ বয়ুসুর নেতৃত্বাধীন ‘ফ্রঁ পপুলেয়ার’ দলের প্যানেল থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে প্যারিস ও আশপাশের এলাকায় সাতজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা স্থানীয় ভোটারদের মন জয় করে।
ফ্রান্সের সামগ্রিক নির্বাচনে রাজধানী প্যারিসে বাম জোটের প্রার্থী এমানুয়েল গ্রেগোয়া জয়ী হয়েছেন। লিয়ঁ, মার্সেই, নঁত ও রেন শহরে বামপন্থিরা জয় ধরে রেখেছে। অন্যদিকে তুলুজ ও লিমোজ শহরে ডানপন্থিরা নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোটার অংশ নিয়েছেন, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় বেশি।
logo-1-1740906910.png)