Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

মানব পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ইউরোপের পুলিশ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৪

মানব পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ইউরোপের পুলিশ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুলিশ সংস্থা ইউরোপোল অভিবাসী পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে একটি নতুন কেন্দ্র চালু করেছে। ইউরোপিয়ান সেন্টার এগেইনস্ট মাইগ্রেন্ট স্মাগলিং (ইসিএএমএস) নামে এই কেন্দ্রের মাধ্যমে পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  

২৪ মার্চ নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে ইউরোপোল সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান ক্যাথরিন দ্য বোল জানান, অভিবাসী পাচারকে গুরুতর সংঘবদ্ধ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি প্রায়ই প্রাণহানির কারণ হয় এবং অপরাধীরা বিপুল অর্থ আয় করে। নতুন কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে ইউরোপ এই অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।  

ইউরোপোল জানিয়েছে, ইসিএএমএস তথ্যভিত্তিক তদন্ত, ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) এবং আর্থিক অনুসন্ধানের ওপর জোর দেবে। পাচারকারীদের অবৈধ আয়ের উৎস চিহ্নিত করে তা জব্দ করার কাজও করা হবে। এর ফলে বড় আকারের অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

নতুন কেন্দ্রের কার্যক্রমের একটি বড় অংশ হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নজরদারি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে পাচারকারীরা যেভাবে অভিবাসীদের আকৃষ্ট করে বা যাত্রা সমন্বয় করে, সেসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এজন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে, যারা অনলাইনে পাচার কার্যক্রম শনাক্ত ও ব্যাহত করবে।  

ইউরোপোল জানায়, ১৮ ও ১৯ মার্চ পরিচালিত “ডিজিটাল অ্যাকশন ডে”-তে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সক্রিয় পাচারকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার নতুন তদন্তের সূত্র পাওয়া গেছে এবং ১০টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।  

পাচারকারীদের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে দেওয়াও নতুন কেন্দ্রের অন্যতম লক্ষ্য। ইউরোপোলের তথ্য অনুযায়ী, অনেক অভিবাসীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে ২০ হাজার ইউরো বা তারও বেশি অর্থ দিতে হয়। এই অর্থ পরে আবার একই ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমে বিনিয়োগ করা হয়। আর্থিক তদন্তের মাধ্যমে এসব অর্থের উৎস খুঁজে বের করে তা জব্দ করা হবে, যাতে পাচারকারী নেটওয়ার্কের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়।

২০১৬ সাল থেকে ইউরোপোল সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে বহু অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মাধ্যমে হাজার হাজার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার এবং শত শত পাচারকারী চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরো জোরদার হবে। উন্নত বিশ্লেষণী প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধী নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং উচ্চ ঝুঁকির লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।  

ক্যাথরিন দ্য বোল বলেন, পাচারকারী চক্রগুলো দুর্বল মানুষদের শোষণ করে বিপুল অর্থ আয় করছে। তাদের কাছে মানুষ কোনো ব্যক্তি নয়, বরং পণ্য। এই অপরাধের বিস্তার বিশ্বব্যাপী, তাই এর বিরুদ্ধে লড়াইও বৈশ্বিক পর্যায়ে হওয়া জরুরি।

Logo