মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে ইউরোপের শিল্পাঞ্চলে। হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জার্মানি, ইতালি ও অন্যান্য শিল্পশক্তি দেশগুলোতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইউরোপের শিল্পাঞ্চল, যেখানে স্টিল, কেমিক্যাল ও গাড়ি উৎপাদন হয়, সেখানে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। বিশেষ করে জার্মানির রুহর ভ্যালি ও ইতালির উত্তরাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
ইউরোপীয় অর্থনীতির জন্য এসব শিল্পাঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে না পারা ইউরোপ এখন নতুন করে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপের শিল্প খাত পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কোম্পানি নতুন বিনিয়োগ স্থগিত করেছে। কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়ছে। শিল্পাঞ্চলে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে হবে, তবে স্বল্পমেয়াদে শিল্পাঞ্চলগুলোকে বড় ধরনের মন্দার মুখোমুখি হতে হবে।
ইতোমধ্যে ইউরোপের বড় শিল্প কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্যও কমতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই যুদ্ধ ইউরোপে ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রত্যাশায় উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। এতে বাড়ির ক্রেতা ও সম্পত্তি বিনিয়োগকারীরাও নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই বছরে ইউরোপের শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন আরো কমতে পারে এবং সম্পত্তির দামও গড়ে ৭ শতাংশ হারে কমতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ হারে, কিন্তু যুদ্ধের কারণে তা ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আবারো জ্বালানি সংকট ইউরোপের অর্থনীতিকে নড়বড়ে করে তুলছে। শিল্প উৎপাদন কমছে, বিনিয়োগ স্থগিত হচ্ছে, আর কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়ছে। ইউরোপের শিল্পশক্তি দেশগুলো এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।
logo-1-1740906910.png)