ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে বিশ্বব্যাপী আরো ৪৫ মিলিয়ন মানুষ তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) এ সতর্কতা জারি করেছে। বর্তমানে ৩১৯ মিলিয়ন মানুষ ইতোমধ্যেই চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
WFP-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ ১৭ মার্চ বলেন, “যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জুন পর্যন্ত চলতে থাকে, তাহলে খাদ্যের দাম বাড়বে এবং আরো কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়বে। এটি বিশ্বে ক্ষুধার রেকর্ড মাত্রা তৈরি করবে।”
ফেব্রুয়ারি শেষে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলা মানবিক সহায়তার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে গাজা, সুদানসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ এলাকায় খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শিপিং খরচ ১৮ শতাংশ বেড়েছে, অনেক রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
গাজায় সীমান্ত বন্ধ থাকায় খাদ্য সরবরাহ আরো সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। রাফাহ ক্রসিং দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আংশিকভাবে খোলার কথা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, প্রতিদিন অন্তত ৬০০ ট্রাক খাদ্য ও সাহায্য প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ২০০ ট্রাক প্রবেশ করছে।
সুদানে প্রায় ২১ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘ তিন বছরের গৃহযুদ্ধে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। অনেক এলাকায় দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হয়েছে, কিন্তু যুদ্ধের কারণে সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
জাতিসংঘ বলছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। ইতোমধ্যেই দাতারা প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন, ফলে খাদ্য সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)