যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া এখন অনেক সস্তা হয়ে গেল। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও সমালোচনার পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে যে ফি দিতে হয়, তা ৮০ শতাংশ কমানো হয়েছে। আগে এই ফি ছিল ২ হাজার ৩৫০ ডলার, এখন তা কমিয়ে করা হয়েছে মাত্র ৪৫০ ডলার।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত চূড়ান্ত নিয়ম অনুযায়ী নতুন ফি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে। ২০১০ সালে প্রথমবার নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য ফি চালু করা হয়েছিল ৪৫০ ডলার। কিন্তু ২০১৫ সালে তা হঠাৎ করে বাড়িয়ে দেওয়া হয় ২ হাজার ৩৫০ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে কর সংক্রান্ত নতুন নিয়মের কারণে তখন বিপুল সংখ্যক প্রবাসী নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে শুরু করেছিলেন। প্রশাসনের দাবি ছিল, আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক খরচ মেটাতে ফি বাড়ানো হয়েছিল।
এই অতিরিক্ত ফি নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র সমালোচনা হয়। বিশেষ করে ইউরোপে বসবাসরত অনেক প্রবাসী যারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাকসিডেন্টাল আমেরিকানস এ বিষয়ে একাধিক মামলা করে। তাদের দাবি ছিল, নাগরিকত্ব ত্যাগ করা একটি মৌলিক অধিকার, এর জন্য কোনো ফি থাকা উচিত নয়।
সংগঠনের সভাপতি ফাবিয়েন লেহাগ্রে এক বিবৃতিতে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে নাগরিকত্ব ত্যাগের অধিকার সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া জরুরি। ছয় বছরের নিরলস আইনি লড়াই ও প্রচারণার ফলেই এই বিজয় এসেছে।”
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ফি কমানোর ঘোষণা আসার পরও অন্তত ৮ হাজার ৭৫৫ জন আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে গিয়ে পুরনো ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি পরিশোধ করেছেন। তবে মোট কতজন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া বেশ জটিল। আবেদনকারীকে একাধিক লিখিত ও মৌখিক সাক্ষ্যে নিশ্চিত করতে হয় যে তিনি এই সিদ্ধান্তের পরিণতি বুঝে নিয়েছেন। এরপর কনস্যুলার কর্মকর্তার সামনে শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়। সবশেষে তা পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদন পেলে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
logo-1-1740906910.png)